০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home খেলা অন্যান্য রাজনীতির জল্পনা সরিয়ে ক্রীড়া প্রশাসনে, এআইটিএ-র শীর্ষ পদে লড়তে এবার ভোট ময়দানে লিয়েন্ডার
অন্যান্যখেলাখেলা

রাজনীতির জল্পনা সরিয়ে ক্রীড়া প্রশাসনে, এআইটিএ-র শীর্ষ পদে লড়তে এবার ভোট ময়দানে লিয়েন্ডার

Share
রাজনীতির জল্পনা সরিয়ে ক্রীড়া প্রশাসনে, এআইটিএ-র শীর্ষ পদে লড়তে এবার ভোট ময়দানে লিয়েন্ডার
সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার নির্বাচনে প্রার্থী লিয়েন্ডার। ছবি : ফেসবুক
Share

কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। 

তাঁর মতো এক কিংবদন্তি তারকাকে নিয়ে স্বভাবতই রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছিল।  তবে কি সরাসরি ভোটের ময়দানে লড়তে চলেছেন অলিম্পিক পদকজয়ী লিয়েন্ডার পেজ? প্রায় ছ’মাস ধরে সেই গুঞ্জন চললেও শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থী হতে দেখা যায়নি। তবে এবার জল্পনার অবসান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ভোটের ময়দানে নামতে চলেছেন লিয়েন্ডার, তবে সরাসরি রাজনৈতিক আঙিনায় নয়, ক্রীড়া প্রশাসনের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে। গত বছর বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর এবার তাঁর পাখির চোখ অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইটিএ) সভাপতি পদ।

সম্প্রতি বিটিএ-র এক গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিল মিটিংয়ে সর্বভারতীয় টেনিস সংস্থার প্রেসিডেন্ট পদে লিয়েন্ডারকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সোমবার, রাজ্য টেনিস সংস্থার তরফে সরকারিভাবে এই খবর বিবৃতি দিয়ে জানানোও হয়েছে। বিটিএ সচিব কেতন শেঠ সেই বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, ভারতীয় টেনিস বর্তমানে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের এমন এক দূরদর্শী, দায়বদ্ধ এবং ক্রীড়াবিদ-কেন্দ্রিক নেতৃত্বের প্রয়োজন, যিনি খেলোয়াড়, কোচ, রাজ্য সংস্থা, প্রশাসক এবং স্পনসরদের এক ছাতার তলায় আনতে পারবেন।” জাতীয় ফেডারেশনের সদ্য সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী এই নির্বাচনে লড়ার জন্য লিয়েন্ডার ইতিমধ্যেই ‘স্পোর্টস পার্সনস অফ আউটস্ট্যান্ডিং মেরিট’ (এসওএম) রস্টারে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করে ফেলেছেন, যা তাঁর প্রার্থী হওয়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।

বর্তমানে রজার ফেডেরারের ‘টেনিস হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমেরিকায় রয়েছেন এই বাঙালি টেনিস আইকন। তবে ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, বিটিএ-র এই প্রস্তাবে তিনি সম্মতি জানিয়েছেন। চলতি মাসের শেষে দেশে ফিরেই এআইটিএ নির্বাচনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হলে তিনি নিজের মনোনয়ন পেশ করবেন। জানা যাচ্ছে, সর্বভারতীয় এই নির্বাচনে তাঁর মূল প্রতিপক্ষ হতে পারেন রোহিত রাজপাল। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিটিএ-র সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ক্রীড়া প্রশাসনে নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিলেন লিয়েন্ডার, এবার সেই ইনিংসকেই জাতীয় স্তরে নিয়ে যেতে চাইছেন তিনি।

লিয়েন্ডারের এই নতুন পদক্ষেপের নেপথ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক অঙ্ক দেখছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশ। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। তার আগে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নীতীন নবীনের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে অন্যতম স্টাইলিশ প্রচারক হিসেবে কাজ করলেও তিনি প্রার্থী হননি। ভোট মিটতেই মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চর্চা শুরু হয়, কিন্তু তা বাস্তবে রূপ পায়নি। 

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গেরুয়া শিবির শুরু থেকেই এই কিংবদন্তি তারকাকে ক্রীড়া প্রশাসনে ব্যবহার করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেছিল। ভারত বর্তমানে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য মরিয়া হয়ে আসরে নেমেছে। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে মেগা প্রজেক্ট ‘মিশন অলিম্পিক ২০৩৬’। 

দশ বছর পর গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ থেকে ভারত যাতে অন্তত একশোটি পদক জেতে, তা নিশ্চিত করতেই এই মিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই হাই-প্রোফাইল মিশনের শীর্ষ পদে বসানো হতে পারে লিয়েন্ডারকে। তবে সেই বৃহত্তর মঞ্চে পা রাখার আগে সর্বভারতীয় টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনই হতে চলেছে প্রশাসক লিয়েন্ডারের প্রথম বড় অ্যাসিড টেস্ট।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *