০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি কলকাতা Mamata Banerjee : হাইকোর্টের অনুমতিতে হুগলিতে মমতার সভা, প্রতীক লড়াইয়ের মীমাংসা কবে?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গরাজনীতিরাজনীতিহুগলি

Mamata Banerjee : হাইকোর্টের অনুমতিতে হুগলিতে মমতার সভা, প্রতীক লড়াইয়ের মীমাংসা কবে?

Share
Mamata Banerjee : হাইকোর্টের অনুমতিতে হুগলিতে মমতার সভা, প্রতীক লড়াইয়ের মীমাংসা কবে?
হুগলিতে মমতার সভায় অনুমতি দিল হাইকোর্ট। ফাইল ছবি
Share

কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই ভোটের সলতে পাকাতে ফের সরাসরি ময়দানে নামছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

দীর্ঘ বেশ কয়েক মাস পর দলের কোনও বড় কর্মসূচিতে যোগ দিতে জেলা সফরে যাচ্ছেন তিনি। কাল, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন প্রবীণ এই নেত্রী। 

পুলিশের আইনি জটিলতা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ সবুজ সংকেত মেলার পরেই তৃণমূল শিবিরে উদ্দীপনা তুঙ্গে। তবে একদিকে যখন তিনি ময়দানে নামছেন, অন্যদিকে জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবির নাকি বিরোধী গোষ্ঠীর হাতে, তা নিয়ে জল্পনা চরমে পৌঁছেছে।

হুগলির এই কর্মসূচি ঘিরে অবশ্য আইনি টানাপোড়েন কম হয়নি। কাল, শুক্রবার মাহেশে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে একটি বৃহৎ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিলের পর একটি প্রকাশ্য সভার পরিকল্পনা ছিল দলের। চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার পুলিশের কাছে মিছিলের আবেদন জানালেও জিটি রোডে মারাত্মক যানজট ও প্রশাসনিক সুরক্ষার অজুহাতে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। অগত্যা বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি ভট্টাচার্য কালীঘাট তৃণমূলকে মিছিল করার অনুমতি না দিলেও শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাহেশের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত এই সভা করা যাবে। তবে শর্ত হিসেবে আদালতের নির্দেশ, সভায় ২ হাজারের বেশি জমায়েত করা যাবে না এবং কোনও ভাবেই কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগে এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা যাবে না। 

রাজ্য প্রশাসনকে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আয়োজকদের তরফে কারা স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন, ফোন নম্বর সহ সেই তালিকা বৃহস্পতিবার রাত ৮টার মধ্যেই স্থানীয় পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতের এই ছাড়পত্রের ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবার নতুন করে জেলা সফরে বেরাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। উপনির্বাচনের মুখে তাঁর এই জেলা সফর এবং মাহেশের মঞ্চ থেকে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে কর্মসূচির পাশাপাশি সমান তালে রাজনীতির অলিন্দে ঘনীভূত হচ্ছে জোড়াফুল প্রতীকের লড়াই। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি ও আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হতেই প্রশ্ন উঠেছে—আসন্ন উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক ঠিক কার সইয়ে বরাদ্দ হবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির নাকি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী?

কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, উপনির্বাচনের লড়াইয়ে নামতে তাঁদের কোনো আইনি বাধা নেই। তাঁর বক্তব্য, “আদর্শ আচরণবিধি জারি হয়ে গেছে। প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচার শুরু করতে কোনো বাধা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই প্রতীক দেওয়ার অধিকার ছিল এবং নির্বাচন কমিশন নতুন করে কোনো বিপরীত নির্দেশ জারি করেনি। ফলে কমিশনের নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আগের ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।” কালীঘাট শিবিরের জোরালো যুক্তি, কমিশন এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক অনুমোদনের আইনি ক্ষমতা বাতিল করেনি, ফলে উপনির্বাচনের প্রার্থীদের জোড়াফুল প্রতীক দেওয়ার চূড়ান্ত অধিকার তাঁরই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি এখন নির্বাচন কমিশনের ১২ সেপ্টেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির দিকে। ওই শুনানিতেই নির্ধারিত হতে পারে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ও ক্ষমতার অলিন্দের আসল সমীকরণ। একদিকে হাইকোর্টের অনুমতিতে ফের জেলা সফর ও ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে কমিশনের দরবারে প্রতীকের আইনি যুদ্ধ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে এখন রাজ্য রাজনীতির পারদ চরম সীমায়।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles