০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা TMC : প্রতীক যুদ্ধে আজ কমিশনের দরবারে দুই তৃণমূল! নন্দীগ্রামে প্রার্থী খুঁজতেই কালঘাম জোড়াফুলের
কলকাতাদিল্লিপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গপূর্ব মেদিনীপুরভারতবর্ষ

TMC : প্রতীক যুদ্ধে আজ কমিশনের দরবারে দুই তৃণমূল! নন্দীগ্রামে প্রার্থী খুঁজতেই কালঘাম জোড়াফুলের

Share
TMC : প্রতীক যুদ্ধে আজ কমিশনের দরবারে দুই তৃণমূল! নন্দীগ্রামে প্রার্থী খুঁজতেই কালঘাম জোড়াফুলের
নজরে আজ নয়াদিল্লি। নন্দীগ্রামে প্রার্থী কে ? ফাইল ছবি
Share

নয়াদিল্লি: জোড়াফুল প্রতীক আসলে কার? দলীয় নির্বাচনী প্রতীকের আসল মালিকানা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট শিবির’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নজিরবিহীন টানাপোড়েন এবার চূড়ান্ত পর্বে। 

নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে শনিবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দরবারে মুখোমুখি মুখোমুখি দুই শিবির। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে সকাল ১১টায় প্রথমে শুনানি হবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে। ঠিক এক ঘণ্টা পর, দুপুর ১২টায় দিল্লির নির্বাচন ভবনে কমিশনের মুখোমুখি হবেন মমতার নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর প্রতিনিধিরা। উভয় পক্ষ থেকেই সর্বোচ্চ পাঁচ জন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কালীঘাট শিবিরের তরফে বৈঠকে লড়তে দিল্লিতে উপস্থিত থাকছেন দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়ান, লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার উপদলনেতা সাগরিকা ঘোষ ও প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে এবং একজন আইন বিশেষজ্ঞ। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের কান্ডারী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও আখরুজ্জামানরা। 

উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। তার ঠিক তিন দিন আগে কমিশনের এই তৎপরতা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য রাজনীতিতে এখন একটাই বড় প্রশ্ন, উপনির্বাচনের রণক্ষেত্রের আগেই কি ‘জোড়াফুল’ কার হাতে থাকবে, তা স্পষ্ট করে দেবে নির্বাচন কমিশন?

এদিকে, দিল্লি যখন ক্ষমতার আইনি লড়াইয়ে উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময়েই নন্দীগ্রামের মাটিতে কার্যত অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১,৯৫৬ ভোটে পরাজয় দিয়ে যে নাটকের সূচনা হয়েছিল, ২০২৬-এ তা নতুন মোড় নেয়। এ বছর মমতা আর নন্দীগ্রামে দাঁড়াননি, সেখানে শুভেন্দু তাঁর জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ৯,৬৬৫ করেন। এর পর মমতা ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন নির্ধারিত হয়েছে।

কিন্তু আজকের নন্দীগ্রামে লড়াইয়ের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। বর্তমানে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত তৃণমূল তিন ভাগ। মমতাপন্থী তৃণমূল, ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল এবং এনসিপিআই-তৃণমূল। এক সময়ের দাপুটে নন্দীগ্রাম আন্দোলনকারী শেখ সুফিয়ান কিংবা আবু তাহেরদের মতো নেতারা এখন খোলাখুলি দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ভোটকুশলী আইপ্যাককে নিশানা করে আবু তাহের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “উপনির্বাচনে দুর্দিনে আমাকে বলির পাঁঠা করার জন্য প্রার্থী হতে বলা হলে আমি প্রথমেই নাকচ করব। আমি অত মূর্খ নই।” 

অন্যদিকে সুফিয়ানের স্পষ্ট মন্তব্য, “তৃণমূল শেষ!” গত বিধানসভা ভোটে জোড়াফুলের প্রার্থী হওয়া পবিত্র কর ভোটের পর থেকেই নিখোঁজ। প্রার্থীর সন্ধানে কালীঘাট শিবিরের অখিল গিরি একের পর এক বৈঠক করলেও ‘ভূমিপুত্র’ কোনও শক্ত মুখ খুঁজে পেতে কালঘাম ছুটছে তৃণমূলের। এমনকি পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের ডাকা উপনির্বাচনের সর্বদলীয় বৈঠকেও দেখা মেলেনি তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধির, যা দলের কঙ্কালসার চেহারাকে জনসমক্ষে এনে ফেলেছে।

তৃণমূলের এই বেহাল দশায় নন্দীগ্রামে এবার মূল লড়াইটাই বদলে গেছে। বিজেপির কাছে এই উপনির্বাচন প্রতিপক্ষকে হারানোর লড়াই নয়, বরং নিজেদের আগের রেকর্ড ভাঙার পরীক্ষা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা পুনর্নির্বাচনে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জয়ের নজিরকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানাচ্ছে, নন্দীগ্রামে এবার তাঁদের লক্ষ অন্তত ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটের ব্যবধান গড়া। 

শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা প্রলয় পাল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে খোঁচা দিয়ে বলেছেন, “আর এক বার নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার সাহস দেখান, ভয় নেই, আপনার পোস্টার বাঁধার লোক না থাকলে আমার দলের ছেলেদের পাঠিয়ে দেব।” কাঁথির শান্তিকুঞ্জে বসে শিশির অধিকারী ও সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীও নিশ্চিত, তৃণমূল নন্দীগ্রামে রাজনৈতিকভাবে শূন্য হয়ে গিয়েছে।

বিরোধী শিবিরের ভাঙনের সুযোগ নিয়ে নিজেদের হারানো রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতে লড়ছে বামেরা। যদিও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সিপিআই ও সিপিএমের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তারা বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করে দিয়েছে। 

অন্যদিকে, সমস্ত শিবিরকে চমকে দিয়ে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে সবার আগে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মিলন প্রধানের নাম ঘোষণা করে লড়াইয়ের সলতে পাকাতে শুরু করেছে কংগ্রেস। সব মিলিয়ে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাটকীয়তা চরমে পৌঁছালেও, আসল নজর এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই, কোন শিবিরের হাতে শেষ পর্যন্ত থাকছে দলীয় জোড়াফুল চিহ্ন?

হিডেন স্টোরিজ নিউজ। 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *