০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home অপরাধ Purulia Murder Case: প্রেমিকের ডাকে মেসের ঘরে দেখা, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তেই ফোনে এল কার? পুরুলিয়ায় নার্সিং ছাত্রীর হাড়হিম হত্যাকাণ্ড
অপরাধঅপরাধপশ্চিমবঙ্গপুরুলিয়া

Purulia Murder Case: প্রেমিকের ডাকে মেসের ঘরে দেখা, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তেই ফোনে এল কার? পুরুলিয়ায় নার্সিং ছাত্রীর হাড়হিম হত্যাকাণ্ড

Share
Purulia Murder Case: প্রেমিকের ডাকে মেসের ঘরে দেখা, ঘনিষ্ঠ মুহূর্তেই ফোনে এল কার? পুরুলিয়ায় নার্সিং ছাত্রীর হাড়হিম হত্যাকাণ্ড
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি
Share

পুরুলিয়া : দীর্ঘ তিন বছরের প্রেম, ক্ষণিক মনোমালিন্য এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে প্রবেশ করেছিল তৃতীয় এক পুরুষ। আর সেই সম্পর্কের সন্দেহ, রাগ এবং তীব্র প্রতিশোধস্পৃহাই ডেকে আনলো এক মর্মান্তিক আর হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। পুরুলিয়া শহরের টামনা থানা এলাকার রামকৃষ্ণপল্লীর এক মেসের বদ্ধ ঘরে ঘটে গেল ভয়াবহ সেই কাণ্ড। ঘটনাটি কোনো রূপোলি পর্দার ক্রাইম থ্রিলারের প্লট নয়, বরং বাস্তবের এক ভয়াবহ সত্য।

নিহত তরুণী ২১ বছরের প্রীতিকা মাহাতো। বাঘমুন্ডির বুড়দা গ্রামের বাসিন্দা প্রীতিকা সম্প্রতি জিএনএম নার্সিং পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং তাঁর রবিবার শালবনি যাওয়ার কথা ছিল। তাঁরই প্রেমিক, ২৩ বছরের অমিতকুমার মাহাতো, দুটি সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সম্প্রতি উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রায় তিন বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল এবং পরিবারের অমত থাকা সত্ত্বেও বিয়ের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কের জেরে অগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের শুরু পর্যন্ত দুজনেই নিজেদের ব্লক করে রেখেছিলেন। এই এক মাসের শূন্যস্থানে প্রীতিকার জীবনে প্রবেশ ঘটে তাঁর গ্রামের বাসিন্দা এবং উত্তরাখণ্ডে অধ্যয়নরত বিষ্ণুপদ মাহাতো নামে অপর এক যুবকের।

নতুন সম্পর্কের কথা জানতে পারলেও তিন বছরের পুরনো টান কাটাতে পারেননি অমিত ও প্রীতিকা। কর্মস্থলে রওনা হওয়ার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শনিবার বিকেলে অমিতের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর মেসে যান প্রীতিকা। সেখানে দুজনেই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। কিন্তু ঠিক সেই চরম মুহূর্তে প্রীতিকার মোবাইলে ফোন আসে উত্তরাখণ্ডে থাকা সেই নতুন বন্ধুর। ফোনের স্ক্রিনে নামটি ভেসে উঠতেই অমিতের মাথায় যেন রক্তের চাপ বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বচসা শুরু হয়, আর সেই ঝোঁকের মাথায় প্রীতিকার গলা টিপে ধরে অমিত। মেঝেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলে রান্নাঘরের সবজি কাটার ছুরি দিয়ে প্রেমিকার গলার নলি কেটে নৃশংস ভাবে হত্যা করে সে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণের সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলার মরিয়া চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত। মেসের ঘর জল দিয়ে ধোয়ার পর একটি মুদির দোকান থেকে বড় আটার বস্তা কিনে আনে। তার মধ্যে প্রীতিকার দেহ পুরে মোবাইল চার্জারের তার ও দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধে। এরপর বাইকের পিছনে বস্তা বেঁধে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। কিন্তু শনিবার রাত সওয়া বারোটা নাগাদ বলরামপুর থানার অন্তর্গত পুরানো জামশেদপুর রোডে পুলিশের একটি নাকা চেকিংয়ে আটকে যায় অমিত। বাইকের পিছন থেকে রক্ত চুইয়ে পড়তে দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। ধৃতের থেকে সত্য প্রকাশ্যে আসতেই তাজ্জব বনে যায় পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত পুরুলিয়াবাসী এবং ধৃত অমিতের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে নিহত প্রীতিকার পরিবার।

[TECHTARANGA-POST:12612]

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *