০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি কলকাতা Nandigram By Poll: তৃণমূলের অন্দরে ধুন্ধুমার! নন্দীগ্রামে মমতার আসল ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সঞ্চিতা? জল্পনা তুঙ্গে
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গপূর্ব মেদিনীপুররাজনীতিরাজনীতি

Nandigram By Poll: তৃণমূলের অন্দরে ধুন্ধুমার! নন্দীগ্রামে মমতার আসল ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সঞ্চিতা? জল্পনা তুঙ্গে

Share
Nandigram By Poll: তৃণমূলের অন্দরে ধুন্ধুমার! নন্দীগ্রামে মমতার আসল 'মাস্টারস্ট্রোক' সঞ্চিতা? জল্পনা তুঙ্গে
'কালীঘাট তৃণমূলে'র নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। ফাইল ছবি
Share

নন্দীগ্রাম: একদা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে চাকরি হারিয়েছিলেন ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। সেই তালিকাতেই নাম ছিল নন্দীগ্রামের বয়াল ২ এলাকার বাসিন্দা সঞ্চিতা প্রধান দে-র। কিন্তু রাজনীতির ময়দান বড়ই অদ্ভুত। গতকাল যিনি চাকরি হারিয়ে রাস্তায় বসেছিলেন, আজ তিনিই হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান বাজি। বিধানসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নন্দীগ্রাম। আর সেই যুদ্ধক্ষেত্রে আচমকাই সঞ্চিতাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’।

একুশের পর ছাব্বিশের সাধারণ নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— জোড়া কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে শুভেন্দুকে নিজের চেনা গড় নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিতে হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্রে জিতে একই পরিস্থিতিতে আসন ফাঁকা করেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। এই শূন্য আসনগুলিতে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নজর আটকে ছিল একটাই প্রশ্নে— নন্দীগ্রামে ঘাসফুল শিবিরের মুখ কে হতে চলেছেন?

তৃণমূলের অন্দরে এখন আড়াআড়ি বিভাজন। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ‘কালীঘাট তৃণমূল’, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’। দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীকের লড়াই তুঙ্গে। ঋতব্রত শিবির প্রকাশ্যেই অফার দিয়েছিল, নন্দীগ্রাম থেকে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড়াক, তাঁরা কোনও প্রার্থী দেবে না। সেখানে দাঁড়িয়ে মমতার মতো অভিজ্ঞ নেত্রী নিজে লড়াইয়ে না নেমে সঞ্চিতাকে দাঁড় করালেন কেন, তা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে চর্চা।

চল্লিশ ছুঁইছুঁই সঞ্চিতা প্রধান দে একসময় বয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। তমলুকের বাসিন্দা হলেও নন্দীগ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির সক্রিয় সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব সামলেছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, স্থানীয় স্তরে তাঁর এই নিবিড় জনসংযোগ এবং ‘ভূমিপুত্র’ ইমেজকে কাজে লাগাতেই কালীঘাট থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ শিবিরের কটাক্ষ, সরাসরি শুভেন্দুর গড়ে লড়াই করার ঝুঁকি না নিয়ে এক চাকরিহারা শিক্ষিকাকে সামনে ঠেলে দিলেন মমতা। চেনা মাটিতে সঞ্চিতা কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles