শান্তিপুর: রাজ্যে সরকার বদলেছে ঠিকই, কিন্তু বদলায়নি সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ক্ষোভ আর দুর্ভোগের ছবি।
নদিয়া জেলার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত ঐতিহাসিক ফুলিয়া স্টেশন রোড তার অন্যতম জ্বলন্ত উদাহরণ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে সরাসরি ফুলিয়া স্টেশনে যাওয়ার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথটির বর্তমানে কঙ্কালসার চেহারা। চারিদিকে বড় বড় খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বোঝা দায়। গর্তের মাঝে রাস্তা, নাকি রাস্তার মাঝে গর্ত!
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, নিত্যযাত্রী, তন্তুবায় এবং ব্যবসায়ীরা এই রাস্তা দিয়েই স্টেশনের দিকে যাতায়াত করেন। অনেক সময় ট্রেন ধরার তাগিদে বাস, টোটো কিংবা মোটরবাইক দ্রুতগতিতে চালাতে হয়। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। বেহাল রাস্তার কারণে প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সামান্য একটু অসাবধানতা কিংবা রাতের অন্ধকারে গর্ত দেখতে না পেলেই বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে পথচলতি মানুষকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও রাস্তা সারাইয়ের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দরজায় ঘুরেছেন তাঁরা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মিললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাজ্য রাজনীতিতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে বিজেপির নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর চার মাস অতিক্রান্ত হতে চলল, অথচ ফুলিয়া স্টেশন রোডের চিত্র বিন্দুমাত্র বদলায়নি। স্থানীয় দোকানদার থেকে শুরু করে টোটো চালকদের ক্ষোভ, “সরকার বদলালেও আমাদের কপালের দুর্ভোগ বদলাল না! বর্ষা বা রাতে এই রাস্তায় যাতায়াত করা প্রাণ হাতে নেওয়ার সামিল।”
এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট দাবি, কোনও বড়সড় প্রাণহানি বা মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আগেই অবিলম্বে ফুলিয়া স্টেশন রোডটির পুনর্নির্মাণ ও মেরামতির কাজ শুরু করতে হবে। প্রশাসন এবং নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নজরে কি আদৌ এই বেহাল রাস্তার খবর পৌঁছাবে, নাকি লালফিতের ফাঁসে আটকেই থাকবে ফুলিয়াবাসীর সুরাহার আশা?
Leave a comment