০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা Maoist Leader Arrested: কলকাতা পুলিশের বিরাট সাফল্য, পটাশপুরে ধরা পড়ল জঙ্গলমহলের দুর্ধর্ষ মাওবাদী প্রধান আকাশ
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

Maoist Leader Arrested: কলকাতা পুলিশের বিরাট সাফল্য, পটাশপুরে ধরা পড়ল জঙ্গলমহলের দুর্ধর্ষ মাওবাদী প্রধান আকাশ

Share
Maoist Leader Arrested:  কলকাতা পুলিশের বিরাট সাফল্য, পটাশপুরে ধরা পড়ল জঙ্গলমহলের দুর্ধর্ষ মাওবাদী প্রধান আকাশ
জঙ্গলমহলের মাওবাদী প্রধান আকাশ গ্রেফতার। নিজস্ব ছবি
Share

পূর্ব মেদিনীপুর: দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিরাপত্তাবাহিনীকে চকমা দিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থেকে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। পুলিশের দাবি, এক সহযোগীর মদতে ছদ্মবেশে পটাশপুরে নিজের শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এই মাওবাদী প্রধান। তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’টি বিশেষ ব্যাগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও চরমপন্থী বইপত্র সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম।

মাওবাদী নেতা আকাশের এই গ্রেফতারিকে রাজ্য পুলিশের এক ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই সোশাল মিডিয়া এক্স-এ এই বার্তা ছড়িয়ে দেন। তিনি কলকাতা পুলিশের এসটিএফ কর্মীদের ভুয়সী প্রশংসা করে লেখেন, ‘সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি-১-এর সম্পাদক অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশকে পটাশপুরের লালট থেকে পাকড়াও করা হয়েছে। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরাপত্তাবাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আসা এই নেতাকে ধরা বড় সাফল্য। আমাদের রাজ্য সরকার কোনোভাবেই বঙ্গভূমিতে লাল সন্ত্রাস পুনরুজ্জীবিত হতে দেবে না এবং চরমপন্থী কার্যকলাপ রুখতে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল আশির দশকে ছাত্রজীবনে অতিবামপন্থী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হন। পরবর্তীকালে পিডব্লিউজি-র সদস্য হয়ে সারেঙ্গা, গোয়ালতোড় এবং ঝাড়খণ্ডের গুড়াবান্দা এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা নেন। ২০০৪ সালে সিপিআই (মাওবাদী) গড়ে উঠলে জঙ্গলমহলে মাওবাদী ঘাঁটি শক্ত করার নেপথ্যে মুল কারিগর ছিলেন এই আকাশ। লালগড় আন্দোলনের অন্যতম নায়ক হওয়ার সুবাদে ২০১০ সালে তিনি রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং কিষানজির মৃত্যুর পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উঠে আসেন। পরবর্তীতে বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্ত চষে বেড়াতেন ‘মনোজ’ বা ‘তিমির’ নামে পরিচিত এই শীর্ষ নেতা।

ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা মিলিয়ে যাঁর মাথার দাম ছিল ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, সেই কুখ্যাত নেতার পতন শুরু হয় সম্প্রতি। একের পর এক যৌথ বাহিনীর অভিযানে স্কোয়াডের ১৫ জন সঙ্গী নিহত হওয়া এবং সহকর্মীদের আত্মসমর্পণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ৬৪ বছরের আকাশ। উচ্চ রক্তচাপ সহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। দলমার জঙ্গল ছেড়ে বাধ্য হয়েই অসুস্থ শরীরে আশ্রয় খোঁজার উদ্দেশ্যে পটাশপুরে এসে অবশেষে খাঁচাবন্দি হলেন চার দশকের এই ফেরারি মাওবাদী।

[TECHTARANGA-POST:12702]

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *