০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা Nazul Islam: বুশরা-বিতর্ক থেকে অভিষেক-প্রসঙ্গ, বিস্ফোরক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস নজরুল ইসলাম
কলকাতাকলকাতা

Nazul Islam: বুশরা-বিতর্ক থেকে অভিষেক-প্রসঙ্গ, বিস্ফোরক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস নজরুল ইসলাম

Share
Nazul Islam: বুশরা-বিতর্ক থেকে অভিষেক-প্রসঙ্গ, বিস্ফোরক অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস নজরুল ইসলাম
অভিষেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট কবে ? প্রশ্ন নজরুল ইসলামের। নিজস্ব ছবি
Share

কলকাতা: আইপিএস অফিসার বুশরা বানুর ‘ইনশাআল্লাহ’ বা ‘আসসালামু আলাইকুম’ শব্দবন্ধ ব্যবহার ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর ‘জনস্বার্থে’ বদলির প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক নজরুল ইসলাম। 

উর্দির সঙ্গে ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় আচরণের সংযোগ, অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস (AIS Rules)-এর আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে শুরু করে বর্তমান রাজ্য রাজনীতির একাধিক বিস্ফোরক ইস্যু সব কিছু নিয়েই সোচ্চার হলেন এই অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস।

হিডেন স্টোরিজ নিউজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে  প্রাক্তন আইপিএস নজরুল ইসলাম বলেন, “আসসালামু আলাইকুম বা এই ধরনের গ্রিটিং আরবি ভাষার অংশ। আরব দেশে ইসলাম আসার আগেও এটি প্রচলিত ছিল এবং এর সাধারণ অর্থ ‘আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক’। এতে কোনও আপত্তিকর বা মৌলবাদী শব্দ নয়। একইভাবে ‘ইনশাআল্লাহ’-র অর্থ পরমেশ্বরের ইচ্ছা প্রকাশ করা।” তবে একই সঙ্গে পেশাদার দায়িত্ব ও অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলসের কঠোর কাঠামোর কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

নজরুল ইসলামের বক্তব্য, “একজন সর্বভারতীয় চাকুরিরত অফিসারকে কঠোরভাবে আচরণবিধি মেনে চলতে হয়। প্রশাসনিক বা সরকারি ডিউটি পালন ছাড়া উর্দি পরে অন্য কোনও প্রসঙ্গে এই ধরনের কথা বলার আগে সরকারের অনুমোদনের প্রশ্নটি আসে। উর্দির নিজস্ব কোনও ধর্মীয় পরিচয় থাকে না, তবে উর্দিতে থাকাকালীন দায়িত্বই মুখ্য।” বদলির বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সরকারি নির্দেশে ‘জনস্বার্থে’ (Public Interest) ট্রান্সফারের কথা বলা হলে প্রশাসনিকভাবে তার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে না।

চাকরিজীবনের রাজনৈতিক টানাটানি ও নিজের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন এই অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিক। ২০১২ সালে তৎকালীন শাসকদলের সঙ্গে তাঁর লিখিত বই এবং প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, কীভাবে তাঁর পদোন্নতি ও পেনশন দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট ও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে (CAT) নিজের মামলা নিজে লড়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করেন।

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একাধিক সাম্প্রতিক তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও সুর চড়ান এই প্রাক্তন আইপিএস। শালবনী জমি কেলেঙ্কারি, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত এবং তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তাঁর পর্যবেক্ষণ, “আইনি বা প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ উঠে না গেলে সঠিক তদন্ত সম্ভব নয়। সরকারি জমির রেকর্ড বদলে বিক্রির পেছনে তৎকালীন প্রশাসনিক ও রাজস্ব আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।” পাশাপাশি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংক্রান্ত তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিলম্ব ও ভূয়ো যুক্তির বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন।

বর্তমানে পুলিশি ভূমিকার নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ নিষ্ক্রিয় নয়, তবে তারা প্রায়শই বেআইনি কাজ বা শাসকদলকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতি-সক্রিয়।” উর্দির মর্যাদা ও অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস রক্ষা করার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন এই প্রাক্তন শীর্ষ আমলা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *