০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ Mumbai BMW: ১৭, ১৯ ও ২১, বেপরোয়া গতির বলি তিন তাজা প্রাণ! সেতু থেকে ৭৫ ফুট নিচে আছড়ে পড়ল বিএমডব্লিউ
ভারতবর্ষভারতবর্ষমহারাষ্ট্র

Mumbai BMW: ১৭, ১৯ ও ২১, বেপরোয়া গতির বলি তিন তাজা প্রাণ! সেতু থেকে ৭৫ ফুট নিচে আছড়ে পড়ল বিএমডব্লিউ

Share
Mumbai BMW: ১৭, ১৯ ও ২১, বেপরোয়া গতির বলি তিন তাজা প্রাণ! সেতু থেকে ৭৫ ফুট নিচে আছড়ে পড়ল বিএমডব্লিউ
দুর্ঘটনার পর বিএমডব্লিউর ধ্বংসাবশেষ। ছবি : এক্স
Share

মুম্বই: ১৭, ১৯ এবং ২১। জীবনের বসন্ত সাকুল্যে পার করা হয়নি এখনও। কিন্তু মধ্যরাতের বেপরোয়া গতি আর চাকা গড়ানোর মুহূর্তের অসাবধানতায় এক লহমায় নিভে গেল তিনটি তাজা প্রদীপ। রবিবার ভোরে মুম্বইয়ের নবনির্মিত কোস্টাল রোড উড়ালপুলে ঘটে গেল এক চরম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। 

মেরিন ড্রাইভ থেকে হাজি আলির দিকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে চলা একটি বিলাসবহুল কালো রঙের বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উড়ালপুলের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে সোজা নিচে আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৭, ১৯ ও ২১ বছর বয়সী তিন তরুণ। 

এ ছাড়া গুরুতর জখম অবস্থায় ২৩ বছরের আরও এক যুবক বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। গতি আর যান্ত্রিক সক্ষমতার উন্মাদনা যে কত বড় মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, মায়ানগরীর রবিবার ভোরের স্তব্ধতা ভেঙে আরও একবার সেই রূঢ় বাস্তবকে সামনে এনে দিল এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবারের সূর্য ওঠার আগেই, ভোর আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ কোস্টাল রোডের কন্ট্রোল রুমে দুর্ঘটনার প্রথম বার্তা পৌঁছায়। সেই সময় মেরিন ড্রাইভের দিক থেকে হাজি আলির অভিমুখে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছিল কালো রঙের ওই বিএমডব্লিউ গাড়িটি। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির গতি এতটাই বেশি ছিল যে চালক মোড়ের মুখে এসে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি উড়ালপুলের ঝুলন্ত একটি সাইনবোর্ড দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে বাউন্ডারি ওয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে। 

ধাক্কার ভয়াবহ তীব্রতায় গাড়িটি বাউন্ডারি ওয়াল টপকে সেতু থেকে সোজা নিচে একটি নির্মাণাধীন গাড়ি পার্কিং এলাকার ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ে। উড়ালপুল থেকে নিচে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সংলগ্ন এলাকা।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাড়ির ভেতরে থাকা চার জন আরোহীকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী নায়ার হাসপাতালে (Nair Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তিন জনকেই ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম ২১ বছর বয়সী শানায় গাজ্জাল (Shanay Gajjal), ১৭ বছর বয়সী ধৈর্য দর্শন শেঠ (Dhairya Darshan Seth) এবং ১৯ বছর বয়সী আদিত্য জাকাসনিয়া (Aditya Jakasniya)। 

১৭ থেকে ২১ বছর বয়সের এই তিন তরুণের এমন করুণ পরিণতির খবর পরিবারে পৌঁছতেই কান্নার রোল ওঠে। অন্যদিকে, ওই গাড়িতে থাকা ২৩ বছর বয়সী আদিত্য কল্পেশ্বর ওসওয়াল (Aditya Kalpeshwar Oswal) গুরুতর আহত অবস্থায় নায়ার হাসপাতালের ট্রমা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার প্রভাব কতটা ধ্বংসাত্মক ছিল, দুর্ঘটনাকবলিত বিএমডব্লিউ গাড়িটির দশা দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। উড়ালপুল থেকে ছিটকে নিচে পড়ার চোট সামলাতে না পেরে গাড়িটির ছাদ ভেতরের দিকে পুর বসে যায়। সামনের উইন্ডস্ক্রিন ভেঙে শত টুকরো হয়ে চুরমার হয়ে যায়। ইঞ্জিনের সামনের অংশ একেবারে চেপ্টে গিয়ে ভেতরের যান্ত্রিক অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে, খুলে ছিটকে যায় সামনের বাম্পারটিও। গাড়ির অবশিষ্টাংশ দেখে চেনার উপায় ছিল না যে, কয়েক মুহূর্ত আগেও এটি একটি বিলাসবহুল সুদৃশ্য গাড়ি ছিল।

উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের এই নবনির্মিত কোস্টাল রোডে বেপরোয়া গতি ও রেসিংয়ের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বেশ কিছুদিন ধরেই বিলাসবহুল সুপারকারের অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে মুম্বই ট্রাফিক পুলিশ। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর এই একই কোস্টাল রোড টানেলে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি রেসিং করার অপরাধে ল্যাম্বরগিনি, বিএমডব্লিউ এম২ এবং বিএমডব্লিউ জেড৪-এর মতো বেশ কয়েকটি সুপারকারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল মুম্বই পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ২৮আই (বেপরোয়া গাড়ি চালানো) এবং ১২৫ (অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করা) ধারায় মামলাও দায়ের করা হয়েছিল।

পুলিশি নজরদারি সত্ত্বেও রবিবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নতুন করে শহরের ভিআইপি রাস্তাগুলিতে গতির লাগাম টানা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল। ইতিমধ্যেই পুলিশ এই দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। 

চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ১৭, ১৯ ও ২১ বছরের তিন উঠতি যুবকের এমন করুণ বিদায় ফের প্রমাণ করল, বেপরোয়া গতি কেবল পথচলতি মানুষ নয়, চালক ও সওয়ারিদের জন্যও কতটা প্রাণঘাতী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *