মালদা: স্বামী কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে।
বাড়িতে একলা পেয়ে গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। বাধা দিয়ে চিৎকার করতেই রেহাই মেলেনি। ওই মহিলাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা চালাল অভিযুক্ত। ধারালো অস্ত্রের কোপে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আপাতত মালদা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন ওই মহিলা। সোমবার ভোরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মোথাবাড়ি থানা এলাকার একটি গ্রামে। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত প্রতিবেশী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ভোরে নিজের বাড়িতে ধান সেদ্ধ করছিলেন ওই গৃহবধূ। কাজ শেষে বাড়ির পেছনে জল ফেলতে যান তিনি। অন্ধকার ও নির্জনতার সুযোগ নিয়ে আচমকাই তাঁর ওপর চড়াও হয় প্রতিবেশী এক যুবক। গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে সে। বিপদের আঁচ পেয়েই প্রাণপণে চিৎকার করে পরিবার ও আশপাশের লোকেদের ডাকতে শুরু করেন ওই মহিলা।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসার ভয়ে চরম হিংস্র হয়ে ওঠে দুষ্কৃতী। অভিযোগ, ধরা পড়ার আশঙ্কায় সঙ্গেই থাকা একটি ধারালো হাসুয়া বা অস্ত্র দিয়ে গৃহবধূর গলায় ও পিঠে সজোরে কোপ মারতে শুরু করে ওই যুবক। রক্তের ভেজা অবস্থায় মহিলা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং পরিবারের লোকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই চম্পট দেয় অভিযুক্ত।
তড়িঘড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ওই মহিলাকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসকেরা ওই মহিলার ক্ষতস্থানে মোট ২১টি সেলাই দিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গলার ক্ষত গভীর হওয়ায় পড়েছে ১২টি সেলাই এবং পিঠে ও ঘাড়ে পড়েছে আরও ৯টি সেলাই। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রক্তক্ষরণ বেশি হওয়ায় তাঁর অবস্থা এখনো বেশ আশঙ্কাজনক।
আক্রান্ত মহিলার দিদি জানান, “বোন একা হাতে ধান সেদ্ধ করছিল। পেছন দিকে জল ফেলতে যেতেই ওই লোকটা এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বোন রুখে দাঁড়িয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ডাকতেই ওর গলায় আর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে।” ঘটনার পর মোথাবাড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। অভিযোগ পেতেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। মোথাবাড়ি থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা গিয়েছে এবং তার খোঁজে সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
Leave a comment