নয়াদিল্লি: অবশেষে কাটল ২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা!
১৯৯৮ সালের ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে কর্ণম মালেশ্বরীর রুপো জয়ের পর এশিয়ান গেমসের এই মঞ্চে ভারতীয় ভারত্তোলকদের ট্রফি ক্যাবিনেটে শুধু শূন্যতাই জমেছিল। বুধবার জাপানের আইচি-নাগোয়া সেই সুদীর্ঘ খরার অবসান ঘটালেন দেশের তারকা ভারত্তোলক সাইখোম মীরাবাঈ চানু।
মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগে মোট ১৯৮ কেজি ওজন তুলে রুপোর পদক নিজের নামে করে নিলেন ৩২ বছর বয়সী এই অলিম্পিয়ান। স্ন্যাচে ৮৭ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১ কেজি উত্তোলন করে ভারতের ঝুলিতে এই ঐতিহাসিক পদকটি এনে দেন তিনি। এই বিভাগে ২১৫ কেজি তুলে সোনা জিতে নেন উত্তর কোরিয়ার রি সং গুম।
মীরাবাঈয়ের কাছে এই সাফল্যের গুরুত্ব কিন্তু কেবল খরার অবসানে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ এবং সাফল্যমণ্ডিত কেরিয়ারে অলিম্পিক রুপো, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব এবং পর পর তিনটি কমনওয়েলথ গেমসের সোনা ঝুলিতে থাকলেও এশিয়ান গেমসের পদকই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় আক্ষেপের জায়গা।
২০১৪ সালে তাঁর প্রথম এশিয়াড অভিযান শেষ হয়েছিল নবম স্থানে থেকে। এর পর ২০১৮ সালে পিঠের চোটে পুরো প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে যেতে হয় তাঁকে। গত ২০২৩ সালে হাংঝৌ এশিয়ান গেমসেও ট্র্যাজেডি পিছু ছাড়েনি তাঁর। ঊরুর গুরুতর চোট নিয়েই ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১৭ কেজি তোলার চেষ্টা করেছিলেন মীরাবাঈ, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে ব্রোঞ্জ পদকের থেকে মাত্র ৮ কেজি দূরে, অর্থাৎ চতুর্থ স্থানে দৌড় শেষ করতে হয় তাঁকে।
সেই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার ঠিক দু’বছর পর এ দিন পুরোনো ভুল শুধরে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করলেন তিনি। আইচি-নাগোয়ার এই রুপো বিজয়ের মাধ্যমে অলিম্পিক, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ এবং এশিয়ান গেমস, সব ক’টি মেগা টুর্নামেন্টেই পদক জয়ের অবিস্মরণীয় ‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম’ সম্পূর্ণ করলেন ভারতীয় ভারাত্তোলনের এই স্বপ্নকন্যা। কেরিয়ারের এত বছরের একমাত্র অসমাপ্ত বৃত্তটি আজ অবশেষে পূর্ণ হল।
Leave a comment