০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home দুর্ঘটনা Jharkhand Tragedy:বিসর্জনের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত! নদীতে তলিয়ে গেল ৬ শিশু, কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?
দুর্ঘটনাদুর্ঘটনাভারতবর্ষ

Jharkhand Tragedy:বিসর্জনের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত! নদীতে তলিয়ে গেল ৬ শিশু, কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?

Share
Jharkhand Tragedy:বিসর্জনের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত! নদীতে তলিয়ে গেল ৬ শিশু, কোথায় ঘটল এমন ঘটনা?
প্রতীকী ছবি
Share

রাঁচি: আনন্দ আর উৎসবের আলো নিমেষেই ঢেকে গেল ঘন অন্ধকারের কালছায়ায়। প্রকৃতি ও ফসলের দেবী করম মায়ের পুজো শেষে প্রতিমা ও ‘করম ডালি’ বিসর্জন দিতে গিয়ে ঘটল এক চরম মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নদীর প্রবাল স্রোতে ভেসে গিয়ে সলিলসমাধি ঘটল মোট ৬ জন নিষ্পাপ শিশুর। বুধবার সকালে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের দুটি পৃথক এলাকায়। উৎসবে মেতে ওঠা পরিবারগুলোতে এখন শুধুই কান্নার রোল আর স্বজনহারার আর্তনাদ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম ও সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের পালামু জেলার বোক্যা নামক এলাকায়। প্রতি বছরের মতো এবারও আদিবাসী সমাজের মূল উৎসব ‘করম বিসর্জন’ উপলক্ষে স্থানীয় মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন কোয়েল নদীর ঘাটে। উৎসবের সমাপ্তি আচারে যখন মেতে ছিলেন সকলে, ঠিক সেই সময় ঘটে চরম বিপত্তি। নদীর নামতেই হঠাৎ জলের প্রবল স্রোতে ভেসে যায় ৫ শিশু। তাদের চিৎকার শুনে নদীর ঘাটে উপস্থিত সবাই উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পানির তোড়ে চোখের পলকে তলিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পালামু জেলা পুলিশ এবং ডুবুরিদের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। দীর্ঘক্ষণ নদীতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ৪ জন শিশুর নিষ্প্রাণ দেহ জল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১ শিশুর খোঁজে এখনও এনডিআরএফ এবং ডুবুরিরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে তাঁর বাঁচার আশাও কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডেরই নানি ঝারিয়া এলাকায়। সেখানেও স্থানীয় একটি জলাশয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে ‘করম ডালি’ বিসর্জন দিতে গিয়ে জলে তলিয়ে যায় ১৫ বছরের এক নাবালিকা। তাঁকে বাঁচাতে স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ জলে ঝাঁপ দিলেও শেষরক্ষা হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দীর্ঘ চেষ্টার পর ওই কিশোরীর নিথর দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের আদিবাসী ও কৃষক সমাজে করম পুজো এক অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। প্রকৃতি মায়ের পুজো শেষে এই আনন্দময় বিসর্জনের দিনে এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। জোড়া দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এতগুলো তাজা প্রাণ চলে যাওয়ায় প্রশাসন স্থানীয় নদীনালা ও বিসর্জনের ঘাটগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:12916]

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles