০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home রাজনীতি Election Commission: সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ৫২৯ কোটি টাকা খরচ ! ৫ রাজ্যের মোট ব্যয়ের সিংহভাগ উড়ল পশ্চিমবঙ্গেই, প্রশ্নের মুখে বিপুল খরচের উৎস
রাজনীতি

Election Commission: সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ৫২৯ কোটি টাকা খরচ ! ৫ রাজ্যের মোট ব্যয়ের সিংহভাগ উড়ল পশ্চিমবঙ্গেই, প্রশ্নের মুখে বিপুল খরচের উৎস

Share
Election Commission: সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ৫২৯ কোটি টাকা খরচ ! ৫ রাজ্যের মোট ব্যয়ের সিংহভাগ উড়ল পশ্চিমবঙ্গেই, প্রশ্নের মুখে বিপুল খরচের উৎস
বাংলার ভোটে কত খরচ করেছে বিজেপি?
Share

নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের তাগিদে পাঁচ রাজ্যে কত টাকা খরচ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি? সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া বিজেপি-র জমা খরচের বার্ষিক খতিয়ানে উঠে এল এমনই এক অবিশ্বাস্য হিসাব। পাঁচ রাজ্যের মেগা ভোটের প্রচারে গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে মোট ৫২৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে চোখ কপালে তোলার মতো বিষয় হলো, এই বিপুল তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি— প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা একাই খরচ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দখলের লড়াইয়ে! নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দলের অফিসিয়াল ব্যয়ের পরিসংখ্যানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য স্পষ্ট হতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড়।

কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলা ছাড়া বাকি চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল যথাক্রমে অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে বিজেপির সম্মিলিত কেন্দ্রীয় নির্বাচনী খরচ ছিল প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। যার মধ্যে অসমে ৯৬.২৬ কোটি টাকা, কেরলে ৮২.৬৭ কোটি টাকা, তামিলনাড়ুতে ৫১.৫৬ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ১১.৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু বাংলায় জয়ের মরিয়া চেষ্টায় কোনো খামতি রাখেনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এখানে শুধুই সাধারণ দলীয় প্রচার ও বিজ্ঞাপনের পেছনে খরচ করা হয়েছে ২১৭.১৬ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি প্রাক-নির্বাচনী রণকৌশল হিসেবে দলীয় প্রার্থীদের সরাসরি তহবিলের জন্য বরাদ্দ করা হয় ৬৯.৮৩ কোটি টাকা। প্রার্থীরা নিজেদের খরচের সিংহভাগ— অর্থাৎ প্রায় ৫৮.৮০ কোটি টাকাই পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ভান্ডার থেকে। উল্লেখ্য, এই ব্যয়ের বাইরে রাজ্য ও জেলা স্তরের স্থানীয় সাংগঠনিক খরচ এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত খরচের হিসাব ধরা নেই।

বিপুল খরচের এই খতিয়ানের পাশাপাশি চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে বিজেপির বিপুল অনুদান ও আয়ের পরিসংখ্যানেও। পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন চলার সেই উত্তাল দিনগুলিতে শুধুমাত্র বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরেই জমা পড়েছে মোট ১,৪৭৩ কোটি টাকার দান-অনুদান। দলের রাজ্য শাখাগুলির আলাদা চাঁদা তো ছিলই। যার ফলে ভোট চলাকালীন এত বিশাল অংকের অর্থ খরচের পরেও বিজেপির কেন্দ্রীয় তহবিলের পরিমাণ হ্রাস তো পায়ইনি, উল্টে লাফিয়ে বেড়েছে! যেখানে ভোট শুরুর ঠিক আগে দলের কেন্দ্রীয় তহবিলে ছিল ৬,৭২২ কোটি টাকা, ভোট শেষে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে সেই জমার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় বিপুল ৭,৬২৭ কোটি টাকা!

কোথা থেকে এলো এই পাহাড়প্রমাণ অর্থ? কোন উৎস থেকে নির্বাচনী আবর্তে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার ফান্ডিং জমা পড়ল দলীয় সিন্দুকে? বিরোধীরা এখন এই প্রশ্ন তুলেই সুর চড়াতে শুরু করেছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের নামে এই অর্থশক্তির অনিয়ন্ত্রিত প্রদর্শন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles