০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ দিল্লি CJP On ECI: গোয়াতেও ফাঁস জ্ঞানেশের ‘খেলা’! এবার কমিশনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ককরোচ জনতা পার্টির
দিল্লিভারতবর্ষভারতবর্ষ

CJP On ECI: গোয়াতেও ফাঁস জ্ঞানেশের ‘খেলা’! এবার কমিশনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ককরোচ জনতা পার্টির

Share
CJP On ECI: গোয়াতেও ফাঁস জ্ঞানেশের ‘খেলা’! এবার কমিশনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ককরোচ জনতা পার্টির
নাম কাটার অভিযোগ এবার গোয়া থেকেও। ছবি : সংগৃহীত
Share

পানাজি ও নয়াদিল্লি: একের পর এক নজিরবিহীন টানাপোড়েনে জেরবার দেশের নির্বাচন সদন! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এক দিকে যখন সহকর্মীদের গোপন বিদ্রোহের চিঠি ফাঁস হয়ে তোলপাড় দেশ, ঠিক তখনই সামনে এলো গোয়ার চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। 

নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল ‘ECINet’-এর মাধ্যমে গোয়ার ৯৭ জন বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে ছাঁটাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দিল্লির কেন্দ্রীয় নির্দেশে। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশীর পর পর ১৪ বার দেওয়া আপত্তি উপেক্ষিত হওয়ার পর এ বার গোয়ার ঘটনা প্রমাণ করে দিল কমিশন কী ভাবে গ্রাউন্ড লেভেলের কর্মকর্তাদের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে সেন্ট্রালাইজড ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। আর এই জটলার মাঝেই সুর চড়িয়ে ময়দানে নামল তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে সারা দেশে প্রতিবাদের হুমকি দিয়েছে তারা।

সংবাদমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের চার দিন আগে রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) কেন্দ্রকে সাত দিনে আটটি ইমেল পাঠান। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে স্থানীয় আধিকারিকদের (ERO) করা শুনানিতে ওই ৯৭ জন ভোটারকে সম্পূর্ণ বৈধ পাওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তির মারপ্যাঁচে তাঁদের নাম পুনর্বহাল করা যায়নি। কারণ সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ ছিল সরাসরি দিল্লির হাতে। এমনকি কমিশনের নিজস্ব আইটি প্রধানকে চিঠি লিখেও সেই সমাধান করা যায়নি। গত ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই ৯৭ জন বৈধ নাগরিক ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ফিরে পাননি।

গোয়ার এই জলজ্যান্ত তথ্য সামনে আসার পরই দিল্লিতে প্রেস ক্লাব থেকে সুর চড়ান ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে এবং সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস। NEET-UG কাণ্ডে টানা ৪৯ দিন আন্দোলন চালিয়ে বিজেপি সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ছিনিয়ে নেওয়া এই তরুণ সংগঠনটি এ বার সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে। দীপকের স্পষ্ট অভিযোগ, “মোদীর চরম যুগেও বিজেপি যে ভোট শেয়ার পাননি, জ্ঞানেশ কুমার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর সেই ভোট শেয়ার বিজেপিকে পাইয়ে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছেন।”

কমিশনের এই অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে তিনটি স্পষ্ট দাবি পেশ করেছে সিজেপি— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু এবং সমস্ত আসন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত রাখা। এ ছাড়া চলমান ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR)-এর কাজ বন্ধ রেখে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ফিরে যাওয়ারও দাবি তুলেছেন তাঁরা। সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, ১৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলা এই এসআইআর-কে হাতিয়ার বানিয়ে বিরোধী ভোটারদের নাম ছেঁটে ফেলার রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে।

বিতর্কের আঁচ গিয়ে পড়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। আইনজীবী ব্রজেশ সিংহ অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রুজুর আবেদন জানিয়েছেন। অন্য দুই কমিশনারকে এড়িয়ে একক সিদ্ধান্তে কমিশন চালানোর অভিযোগ এখন আদালতের বিচারাধীন। সব মিলিয়ে, একদিকে গোয়ার ডিজিটাল জালিয়াতির কঙ্কালসার চেহারা, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের রাজপথে নামার হুঙ্কার, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এখন কার্যত কোণঠাসা নির্বাচন সদন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *