ঢাকা: পরিচ্ছন্নতা কেবল একটি অভ্যাস নয়, একটি সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম চাবিকাঠি— এই বার্তাকে পাথেয় করেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনে মর্যাদার সঙ্গে উদযাপিত হলো ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচি। ভারতে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এই সামাজিক উদ্যোগের রেশ এবার দেখা গেল প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশেও। ‘স্বচ্ছতা মে সহভাগ, স্বচ্ছ ভারত, বিকশিত ভারত’ মূলভাবকে সামনে রেখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের সমস্ত কর্মকর্তা ও কর্মীদের উপস্থিতিতে এক বিশেষ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী উপস্থিত কর্মকর্তা ও কর্মীদের স্বচ্ছতার বিশেষ শপথবাক্য পাঠ করান।
হাইকমিশনের তরফে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে আরও সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য এই অঙ্গিকার গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ধারাবাহিক প্রচারণা কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতাই ফিরিয়ে আনে না, বরং সামাজিক দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে বর্জ্য কমানো ও টেকসই অভ্যাসে সকলকে উৎসাহিত করে। এর মাধ্যমে ‘স্বচ্ছ ভারত, বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বিশেষ অবদান রাখা সম্ভব হবে।
কৌতূহলজনক বিষয় হলো, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘদিনের ভাবনার মতোই বর্তমানে বাংলাদেশেও নতুন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে দেশবাসীকে বার্তা দিচ্ছেন। নিজে বাংলাদেশ সচিবালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি আমজনতাকে সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে নদী, নালা, খাল-বিল ও পুকুর দূষণমুক্ত রাখার ডাক দিয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে ভারতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যেভাবে নরেন্দ্র মোদী পরিচ্ছন্নতাকে একটি গণআন্দোলনে রূপ দিয়েছেন, তার ইতিবাচক প্রভাব এখন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও দৃশ্যমান।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতের কোণায় কোণায় ব্যাপক উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হচ্ছে এই ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ ২০২৬ কর্মসূচি। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে রেলওয়ে স্টেশন, বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি দফতর এবং জনবহুল এলাকাগুলিতে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও যুবসমাজকে যুক্ত করে কড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবহারের বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে মানুষের দুয়ারে।
[TECHTARANGA-POST:12942]
Leave a comment