০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ দিল্লি Rahul Gandhi : দেশদ্রোহী জ্ঞানেশ কুমার! ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে মোদী-শাহকে বিঁধে সুর চড়ালেন রাহুল
দিল্লিভারতবর্ষভারতবর্ষ

Rahul Gandhi : দেশদ্রোহী জ্ঞানেশ কুমার! ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে মোদী-শাহকে বিঁধে সুর চড়ালেন রাহুল

Share
Rahul Gandhi : দেশদ্রোহী জ্ঞানেশ কুমার! ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে মোদী-শাহকে বিঁধে সুর চড়ালেন রাহুল
দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধি। ছবি : এক্স
Share

নয়াদিল্লি: নির্বাচন সদনের গোপন নথিতে অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ঝড়ের মুখোমুখি দেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সব চেয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি “দেশদ্রোহী” বলে আখ্যা দেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, সাংবিধানিক প্রধানের পদ থেকে তাঁর অবিলম্বে ইস্তফার দাবি তুলে রাহুল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান ধ্বংস করার এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে কংগ্রেস চুপ করে বসে থাকবে না।

কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী কর্তৃক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া পর পর ১৪টি আপত্তি সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরেই ময়দানে নামেন বিরোধী দলনেতা। সাংবাদিক বৈঠকে পপ-আপ স্লাইডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ছবি সামনে এনে রাহুল অভিযোগ করেন, এটা দেশের বিরুদ্ধে এক সংগঠিত ষড়যন্ত্র।

কংগ্রেস সাংসদ অত্যন্ত চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “ভোটে জিততে না পেরে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যদি দেশের সাধারণ মানুষের ভোটই চুরি হয়ে যায়, তবে সেই চুরি হওয়া ভোটের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ভারতীয় সংসদ বা আইনসভার কোনও আইনি বৈধতা থাকতে পারে না। আজ ভোট চুরি হয়েছে, কাল দেশের আইন চুরি হয়েছে, আর তার পর একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান চুরি হয়ে যাচ্ছে।” রাহুল প্রশ্ন তোলেন, গত ৫০ বছর ধরে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে রাজনৈতিক হাওয়া পরিবর্তন হলেও, ইদানীং ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে শাসকবিরোধী হাওয়া (Anti-incumbency) কী ভাবে অলৌকিক ভাবে গায়েব হয়ে যাচ্ছে? 

১৯৭১ সালের বাংলাদেশের যুদ্ধের বিপুল জয়ের পর খোদ ইন্দিরা গান্ধীকেও দেশের শাসকবিরোধী হাওয়ার মুখে পড়তে হয়েছিল, অথচ নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহদের বেলায় তা কোন জাদুবলে মিলিয়ে যায়, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল বলেন, “আজ না হয় কাল, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে। জ্ঞানেশ কুমারের উচিত সততা দেখিয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করা এবং রাজসাক্ষী হওয়া। তবেই তা জাতীয়তাবাদের কাজ বলে গণ্য হবে।” ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনগুলি ১০০ শতাংশ জালিয়াতি করে জেতা হয়েছে বলেও বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি।

অন্য দিকে, কংগ্রেসের এই রণংদেহি মেজাজের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপি। কংগ্রেসের এই অভিযোগকে রাজনৈতিক হতাশার ফল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির দলীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী। 

শাসকদলের তোপ, “গণতান্ত্রিক উপায়ে দেশবাসী বার বার গান্ধী পরিবারকে বিরোধী আসনে বসিয়ে দেওয়ায় লোকতন্ত্রের চোর কংগ্রেস আজ চরম হতাশায় ভুগছে।” তবে বিজেপির এই সাফাই সত্ত্বেও, দেশের প্রধান বিরোধী দলনেতার এই সরাসরি ‘দেশদ্রোহী’ তোপ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফার দাবিতে রাজধানীর রাজনীতিতে পারদ এখন চূড়ান্ত উর্ধ্বে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *