০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জয়ের লক্ষ্য জামায়াতের: চাপে বিএনপি, নেপথ্যে বড় পরিকল্পনা
বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জয়ের লক্ষ্য জামায়াতের: চাপে বিএনপি, নেপথ্যে বড় পরিকল্পনা

Share
Share

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়ছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর (জেআই) একটি অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, তারা অন্তত ৭৬টি সংসদীয় আসনে সরাসরি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত। এছাড়া ৮৫টি আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সব মিলিয়ে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৭১টি আসনে বিএনপি-কে কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত ইসলামপন্থী এই দলটি।

১৮ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর বিএনপি নেতা তারেক রহমান আজ (২২ জানুয়ারি) থেকে উত্তরবঙ্গের সাত-আটটি জেলায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন। ইতিপূর্বে নির্বাচন কমিশন তাঁর সফর আটকে দিলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। তবে জামায়াতের বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনী কৌশল এখন বিএনপির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

জামায়াত তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কিছু বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছে: যেমন, ভোট স্থানান্তর: ঢাকা ও তার আশেপাশের ২০টি আসনে গত কয়েক বছরে তারা পরিকল্পিতভাবে কর্মী-সমর্থকদের বসতি স্থাপন করিয়েছে যাতে জয়ের ব্যবধান নিশ্চিত করা যায়।

এছাড়া, প্রায় ১৫ লক্ষ প্রবাসী সমর্থককে পোস্টাল ব্যালটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ভোটারদের এনআইডি এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে আসছে। প্রতিটি বড় আসনে ৫০-১০০ কোটি টাকা প্রচারের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিশেষ করে ঢাকার ২০টি আসনে মহিলা উইং এবং ইসলামী ছাত্রী সংস্থাকে ‘বিশেষ কৌশলে’ কাজে লাগানো হচ্ছে।

জামায়াতের পরিকল্পনায় নিরাপত্তা বাহিনীতেও প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে:

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত ১৫ জন জামায়াত-শিবির কর্মীকে আনসার-ভিডিপি বা অন্যান্য নিরাপত্তা দায়িত্বে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনের দিন ফজর নামাজের পরপরই লাইন দিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কৌশল নিয়েছে তারা।

জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের একটি বড় অংশে জামায়াতপন্থীদের উপস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।

জামায়াত যখন সুসংগঠিতভাবে এগোচ্ছে, বিএনপি তখন ঘরোয়া কোন্দলে জর্জরিত। জানা গেছে, প্রায় ৯০টির বেশি আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীর ভোট কাটতে পারেন, যা পরোক্ষভাবে জামায়াতকে সুবিধা করে দেবে।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট বা রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই রেফারেন্ডামে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া। এই গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হতে পারে, যা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles