০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ বাংলাদেশের ‘নির্বাচনী প্রহসনে’ গরহাজির আমনজনতা, দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন শেখ হাসিনা
বাংলাদেশবাংলাদেশ

বাংলাদেশের ‘নির্বাচনী প্রহসনে’ গরহাজির আমনজনতা, দেশবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানালেন শেখ হাসিনা

Share
Share

নয়াদিল্লি ও ঢাকা:  বাংলাদেশের ত্রয়োদশতম সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটকে ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’ ও ‘ভোটারবিহীন প্রতারণা’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দেশের সিংহভাগ মানুষই এই অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচনকে বর্জন করেছে। বিশেষ করে মা-বোনেরা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যে সাহসিকতার সাথে এই ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন, তার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

[TECHTARANGA-POST:6465]

সংশ্লিষ্ট বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। খোদ নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে আওয়ামী লীগ শিবিরের বিশ্লেষণ বলছে, এদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। রাজধানী ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও অনেক কেন্দ্র কার্যত ভোটারশূন্য ছিল। শেখ হাসিনার মতে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রেখে যে ‘প্রতারণামূলক’ আয়োজন করা হয়েছে, জনগণের এই কম অংশগ্রহণই তার বিরুদ্ধে সবথেকে বড় রায়।

বিবৃতিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপির এক দীর্ঘ তালিকা পেশ করা হয়েছে। সেই অনুসারে – আগের রাত থেকেই ব্যালট পেপারে আগাম সিল মারা এবং ফলাফল শিটে জোর করে এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও, ভোট কেনাবেচা এবং গোলাগুলির মধ্য দিয়ে এই প্রহসনের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও গ্রেফতারি চালিয়ে তাঁদের জোর করে বুথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে, সমস্ত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে মানুষ এই ভোট বর্জন করেছে।

এসবের পাশাপাশি, এবারের নির্বাচনে ঢাকা শহরে ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দাবি, এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার একটি নীল নকশা মাত্র।

[TECHTARANGA-POST:6477]

বর্তমানের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে শেখ হাসিনা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। 

যথা – ১. এই ভোটারবিহীন অবৈধ নির্বাচন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। 

২. প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। 

৩. আওয়ামী লীগের উপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে সকল রাজনৈতিক বন্দি ও পেশাজীবীদের মুক্তি দিতে হবে। 

৪. একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে, শেখ হাসিনার এই কঠোর অবস্থান তাকেই আরও উস্কে দিল। অন্তর্বর্তী সরকার এই তীব্র বিরোধিতার মুখে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কীভাবে প্রমাণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

[TECHTARANGA-POST:6465]

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles