০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা ভোটের আগে আরও কেলেঙ্কারি ফাঁসের ইঙ্গিত অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

ভোটের আগে আরও কেলেঙ্কারি ফাঁসের ইঙ্গিত অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

Share
Share

কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে আরও বড় কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি সাংসদ ও কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, তা না হলে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে লাগাতার বিক্ষোভ ও বনধের ডাকও দেন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:6159]

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “খুব শীঘ্রই কিছু কেলেঙ্কারি ফাঁস হতে চলেছে। তখন আবার জোরদার দাবি উঠবে এই সরকার চলে যাওয়ার। আমার ব্যক্তিগত মত, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি সেই কেলেঙ্কারি সামনে আসে, তাহলে গোটা পশ্চিমবঙ্গে টানা ৭২ ঘণ্টার বনধ ডাকা উচিত। যতক্ষণ না এই সরকার পদত্যাগ করছে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন এবং রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলা উচিত।”

তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনে বনধের সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। তাঁর কথায়, “যদি খুব বড় কোনও কেলেঙ্কারি সামনে আসে, তাহলে ৭২ নয়, ১৪৪ ঘণ্টার বনধ ডাকতে হতে পারে। আমি কিছু ক্লু পেয়েছি। কীভাবে পর্দাফাঁস করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবছি। এখনও সব তথ্য হাতে নেই। একটু সময় লাগবে। আর যদি পর্দাফাঁস না হয়, তাহলে আদালতেই দেখা হবে।”

দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিজিৎ স্পষ্ট করেন, দুর্নীতি যে হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। তবে সেই দুর্নীতি শিক্ষা ক্ষেত্রের না অন্য কোনও ক্ষেত্রে—তা তিনি খোলসা করেননি। তাঁর বক্তব্য, “আদালতের মাধ্যমে নাও সামনে আসতে পারে। কিন্তু আদালতের বাইরে যদি দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসে, তাহলে লাগাতার বনধ ডেকে এই সরকারকে উৎখাত করা ছাড়া আর কোনও রাস্তা থাকবে না।”

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “গত পাঁচ বছর ধরে শুনছি—এই ডিসেম্বরেই সরকার পড়বে, হাঁড়ি ভাঙবে, বেলুন ফাটবে। প্রতি বছরই ডিসেম্বরের ডেডলাইন দেওয়া হয়। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এখন শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের ধরনই অনুসরণ করছেন।”

[TECHTARANGA-POST:6157]

দেবাংশু আরও বলেন, “যে মানুষটি কিছুদিন আগেই প্যাটিস কাণ্ড-সহ একাধিক বিষয়ে বিজেপির নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, বিজেপি নেতৃত্ব কি তাঁর কথা শুনেছে? বরং তাঁকে চুপ করে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একজন প্রাক্তন বিচারপতি যখন নিজের দলকেই চালনা করতে পারেন না, তখন ভোটের আগে ভবিষ্যদ্বাণী না করাই ভালো। বাংলার মানুষ এসব দেখে অভ্যস্ত, তাঁরা মানসিক ভাবে প্রস্তুত।”

ভোটের মুখে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন নজর—আসলেই কোনও নতুন কেলেঙ্কারি সামনে আসে কি না, নাকি এই বক্তব্য নির্বাচনী রাজনীতিরই অংশ হয়ে থেকে যায়।

[TECHTARANGA-POST:6158]

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *