ঢাকা–নির্বাচনী দৌড়ে আওয়ামী লীগ না থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর একটি সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ‘নির্বাচনী এলাকায় সবুজ টেকসই অর্থনীতির চালচিত্র ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সম্মেলনে নির্বাচনের পরিবেশ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার নিয়ে পর্যালোচনামূলক বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
[TECHTARANGA-POST:6345]
নির্বাচন কেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ‘পতিত’ দলটির (আওয়ামী লীগ) ভোট একটি বড় ‘ডিসিসিভ ফ্যাক্টর’। অর্থাৎ, ভোটারদের একটি বিশাল অংশের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ বর্তমানে নেই। এর ফলে ভোটারদের জায়গা থেকে নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার বিষয়টি পূর্ণতা পাচ্ছে না বলে মনে করছে সিপিডি।
এবারের নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে কিছু ইতিবাচক নতুনত্ব লক্ষ্য করেছে সিপিডি। খন্দকার মোয়াজ্জেম উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো গৎবাঁধা অবকাঠামো বা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন থেকে বেরিয়ে সামাজিক উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। পরিবেশ ও টেকসই অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য ‘যথেষ্ট নয়’। বিশেষ করে, ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
[TECHTARANGA-POST:6329]
নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট ইস্যু নিয়েও নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানায় সিপিডি। সংস্থাটির মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণভোটের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
দেশের অর্থনীতি রক্ষায় সিপিডি নতুন সরকারের জন্য কিছু সুপারিশ পেশ করেছে, “অর্থনীতিকে টেকসই করতে নতুন কোনো ব্যাংক অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। বরং বর্তমানের দুর্বল ব্যাংকগুলো বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচনে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, টেকসই অর্থনীতির জন্য আমলাতান্ত্রিক সংস্কার ও ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছ আর্থিক পরিকল্পনা অপরিহার্য।
Leave a comment