০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিই সার, গদি হাতানোর দেড় বছর পরও উপদেষ্টাদের সম্পত্তির পরিমাণ প্রকাশ করল না ইউনূস প্রশাসন!
বাংলাদেশ

প্রতিশ্রুতিই সার, গদি হাতানোর দেড় বছর পরও উপদেষ্টাদের সম্পত্তির পরিমাণ প্রকাশ করল না ইউনূস প্রশাসন!

Share
Share

ঢাকা: ‘পিছন দরজা’ দিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের শীর্ষ পদে বসার পরেই লম্বা চওড়া ভাষণ দিয়েছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সরকারি ক্ষেত্র সম্পূর্ণ ‘দুর্নীতিমুক্ত’ করার। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে শান্তিতে নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূস ও তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সেই সব আশ্বাস ছিল আদতে ফাঁকা বুলি! প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হতে চললেও, নিজের উপদেষ্টাদের সম্পত্তির হিসাব জনসমক্ষে আনতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস।

২০২৪ সালের ৫ অগস্ট প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর ৮ অগস্ট দায়িত্ব নেয় এই অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৭ দিনের মাথায়, ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউনূস বুক বাজিয়ে বলেছিলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর সকল উপদেষ্টার সম্পত্তির বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সেই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ শুনে অনেকেই আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু, বাস্তবতা যে সম্পূর্ণ বিপরীত, তা এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের পথে এলেও, সেই পরিসংখ্যান আজও অন্ধকারে।

জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা বাদে ২০ জন উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী ও দূত মিলিয়ে আরও ৪ জন শীর্ষ পদে রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাঁদের সম্পত্তির হিসাব প্রধান উপদেষ্টার দফতরে জমা দেওয়ার কথা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ উপদেষ্টা সম্পত্তির হিসাব জমা দিলেও ইউনূসের দফতর তা রহস্যজনকভাবে আড়ালে রেখেছে।

প্রশ্ন উঠছে, কেন এই লুকোচুরি? যে সরকার স্বচ্ছতার কথা বলে ক্ষমতায় এল, তারা কেন নিজেদের ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তির হিসাব দিতে এত ভয় পাচ্ছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূস প্রশাসনের এই টালবাহানাই প্রমাণ করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁদের তথাকথিত লড়াইটা আসলে একটি আইওয়াশ বা লোকদেখানো নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তরে (উপদেষ্টাদের সম্পত্তির হিসাব) ‘শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে’ বলে দায় এড়ালেও নির্দিষ্ট কোনও দিনক্ষণ জানাতে পারেননি।

ক্ষমতা দখলের সময় শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া ইউনূস এখন নিজেই নিজের প্রতিশ্রুতির জালে বন্দি। উপদেষ্টাদের আয়ের উৎস ও সম্পত্তির পরিমাণ গোপনের এই চেষ্টা কি আদতে কোনও বড় কেলেঙ্কারি ঢাকার মরিয়া প্রচেষ্টা? বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখন সেই প্রশ্নই তুলছে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করা যদি ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর নমুনা হয়, তবে এই অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক অবস্থান যে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

স্বচ্ছতার বড়াই করা ইউনূস প্রশাসনের এই দ্বিচারিতা এখন ‘টক অফ দ্য টাউন’। গদি রক্ষার তাগিদে দুর্নীতির সঙ্গে আপস কি তবে শুরু হয়ে গেল? উত্তরটা বোধহয় আর সময়ের অপেক্ষা নয়!

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles