০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ নয়’, এসআইআর মামলায় ৮,৫০৫ জন অফিসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
পশ্চিমবঙ্গ

‘কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ নয়’, এসআইআর মামলায় ৮,৫০৫ জন অফিসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Share
Share

নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর বা ভোটারতালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে চলা মামলায় সোমবার শীর্ষ আদালতের তরফে একাধিক নির্দেশ ও পর্যবেক্ষণ দেওয়া হল। রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত অফিসার দিচ্ছে না বলে যে অভিযোগ নির্বাচন কমিশন তুলেছিল, তার প্রেক্ষিতে এদিন কড়া নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমরা কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারি না।” একইসঙ্গে রাজ্যকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মনোনীত ৮,৫০৫ জন আধিকারিককে আগামিকাল বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

এদিন শুনানির শুরুতেই রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান দাবি করেন, রাজ্য ইতিমধ্যে ৮,৫০৫ জন আধিকারিকের নামের তালিকা জেলাভিত্তিকভাবে কমিশনকে ইমেল করেছে। যদিও কমিশনের আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, তাঁদের কাছে সঠিক তথ্য বা ডেজিগনেশন-সহ তালিকা পৌঁছায়নি। এই তথ্যের সংঘাত দেখে প্রধান বিচারপতি কিছুটা কড়া সুরে বলেন, প্রয়োজনে এই বিষয়ে মুখ্য সচিবের হলফনামা তলব করা হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন, ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO) নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনিয়র ও জুনিয়র পদের সামঞ্জস্য থাকা জরুরি।

নির্বাচন কমিশন আদালতে জানায়, এই ৮,৫০৫ জনের পুল থেকেই তারা ইআরও এবং এইআরও-দের প্রয়োজনে পরিবর্তন বা রিপ্লেস করে নেবে। তবে এঁদের কাজের জন্য অন্তত ১০ দিনের ট্রেনিং প্রয়োজন। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “একজন আনট্রেইনড প্রফেসরের থেকে ট্রেইনড ক্লার্ক অনেক বেশি কার্যকর।” কমিশন খতিয়ে দেখবে এই আধিকারিকরা কাজ করতে সক্ষম কিনা।

রাজ্যের আইনজীবী মাইক্রো অবজারভারদের ভূমিকা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ম্যাপড থাকা অফিসারদের বাদ দেওয়া উচিত নয় এবং মাইক্রো অবজারভারদের উপর সব ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি জানান, মাইক্রো অবজারভাররা কেবল সহযোগিতার জন্য আছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই।

প্রধান বিচারপতি বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়াকে মসৃণ করতেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যত বেশি কর্মী স্ক্রুটিনির কাজে যুক্ত হবেন, কাজ তত স্বচ্ছ হবে। তাই, রাজ্যকে নিশ্চিত করতে হবে যেন ৮,৫০৫ জন অফিসার আগামিকাল বিকেল ৫টার মধ্যেই কাজে যোগ দেন। নির্বাচন কমিশন তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা বিচার করে উপযুক্ত পদে নিযুক্ত করবে। অফিসারদের নথিপত্র দেখার সুযোগ দিতে হবে যাতে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়। 

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এদিনের শুনানির পর এটা পরিষ্কার যে – ভোটারতালিকা সংশোধনের এই বিশাল কর্মকাণ্ডে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক ক্ষমতাকেই প্রাধান্য দিল সুপ্রিম কোর্ট।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *