ঢাকা: টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান। ঠিক তার পরপরই বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, আচমকা সুর বদল করেছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা Asif Nazrul। এখন তিনি দাবি করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ও ক্রিকেটাররাই। অথচ কিছুদিন আগেই এই আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন—ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাংলাদেশ সরকারই লিটন দাসদের ভারতে খেলতে পাঠাতে চায়নি।
[TECHTARANGA-POST:6446]
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে Muhammad Yunus-এর অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চাপ সামলাতেই এখন দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
“আমাদের কোনও অনুশোচনা নেই”
সম্প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আসিফ নজরুল বলেন, “না, আমাদের কোনও অনুশোচনা নেই। আমাদের কিছু এসে যায় না। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বোর্ডই নিয়েছে। নিজেদের নিরাপত্তা আর বাংলাদেশের সম্মানের কথা ভেবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ক্রিকেটারদের এই আত্মত্যাগ উদাহরণ হয়ে থাকবে। আইসিসি জানিয়েছে, আমাদের উপর কোনও জরিমানা আরোপ করা হবে না। বরং ভবিষ্যতে আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে বাংলাদেশে।”
কিন্তু আগের বক্তব্য কী বলছে?
এখানেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক। কারণ, যেদিন বাংলাদেশের তরফে বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা করা হয়, সেদিন এই আসিফ নজরুলই বলেছিলেন—“আমরা আশা করছি, আইসিসি আমাদের শ্রীলঙ্কায় খেলার অনুমতি দেবে। বাংলাদেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা ভারতে খেলতে যাব না।”
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তখন সিদ্ধান্তটি সরকারের তরফেই নেওয়া হয়েছিল—ক্রিকেটার বা বিসিবির নয়।
ক্রিকেটারদের দাবি: আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি
শুধু তাই নয়, বয়কটের পর বাংলাদেশের জাতীয় দলের একাংশ ক্রিকেটার প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন—তাঁদের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা না করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খেলোয়াড়দের মতামত বা সম্মতির কোনও ভূমিকা ছিল না বলেই জানান তাঁরা।
জনমত বুঝে ‘পাল্টি খেলা’?
বিশ্বকাপ বয়কটের জেরে প্রথম থেকেই প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষোভ সামাল দিতে বিসিবি একটি ঘরোয়া লিগ আয়োজন করলেও সেখানে দর্শক উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। এতে পরিষ্কার হয়ে যায়, সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরা এই বয়কট সিদ্ধান্ত মোটেই ভালোভাবে নেননি।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের ধারণা, জনমতের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বুঝেই এখন অবস্থান বদলাচ্ছেন আসিফ নজরুল—সরকার নয়, ক্রিকেটার ও বোর্ডের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
[TECHTARANGA-POST:6443]
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যু তাই এখন আর শুধু ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি সরাসরি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
Leave a comment