০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ বাংলাদেশ দিল্লি-ঢাকা মৈত্রীর নতুন সমীকরণ? তারেক রহমানের শপথে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে মোদীকে!
বাংলাদেশভারতবর্ষ

দিল্লি-ঢাকা মৈত্রীর নতুন সমীকরণ? তারেক রহমানের শপথে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে মোদীকে!

Share
Share

ঢাকা: দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও টানাপোড়েন শেষে বাংলাদেশের ক্ষমতার অলিন্দে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি-র। আর এই প্রত্যাবর্তনের প্রথম বড় কূটনৈতিক চমক হিসাবে উঠে এল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর খবর। তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের এই ঘোষণা কেবল একটি শপথ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ নয়, বরং বর্তমানে ‘শীতল’ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম আন্তর্জাতি মহলের একজন নেতা হিসাবে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। প্রথমে এক্স হ্যান্ডলে ইংরেজি ও বাংলায় পোস্ট এবং পরে সরাসরি টেলিফোন কথোপকথনের মাধ্যমে মোদী যে উষ্ণতা দেখিয়েছেন, তা কূটনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

মোদী কি বলেছিলেন? মোদী তাঁর পোস্টে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে ‘জনগণের আস্থার প্রতিফলন’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ‘বহুমাত্রিক সম্পর্ক’ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাল্টা, বিএনপি-র পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছাকে ‘স্বাগত নিদর্শন’ হিসাবে দেখা হয়েছে। দলের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করেছেন, এই আমন্ত্রণ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। বরং, দুই দেশের উন্নত সম্পর্কের লক্ষ্যেই একটি শুভেচ্ছা বার্তা।

২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের পারদ অনেকটাই নিম্নমুখী ছিল। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ কিছু ইস্যুতে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়। বিএনপি মনে করছে, এই অচলাবস্থা কাটানো প্রয়োজন। হুমায়ুন কবীরের ভাষায়, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের বিদেশনীতির একটি বড় অংশ হল, এই অঞ্চলকে প্রভাবশালী হিসেবে গড়ে তোলা।”

অন্যদিকে, বিএনপি-র জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলা ভারতের কাছেও একইসঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ। ভারত বরাবরই বিএনপি আমলে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রশ্রয় পাওয়া নিয়ে চিন্তিত ছিল। তবে, এবার প্রচারপর্ব থেকেই বিএনপি নেতৃত্ব ভারতকে আশ্বস্ত করেছে যে বাংলাদেশের মাটি ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তারেক রহমান তাঁর প্রথম ভাষণেও জানিয়েছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ — অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে সমান মর্যাদার বন্ধুত্ব চায় ঢাকা।

জামায়াতে ইসলামীর ক্রমবর্ধমান জনভিত্তির বিপরীতে বিএনপি নিজেকে একটি ‘উদারপন্থী গণতান্ত্রিক’ শক্তি হিসাবে দিল্লির কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাইছে। মোদীকে আমন্ত্রণের এই পদক্ষেপ সেই গ্রহণযোগ্যতাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *