নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা। কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল বা ক্যাট (CAT)-এর মামলা কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তর করার রায় পুনর্বিবেচনার যে আবেদন তিনি জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার তা খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি সি হরি শঙ্কর এবং বিচারপতি জ্যোতি সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই রিভিউ পিটিশনের কোনও ‘মেরিট’ বা আইনি ভিত্তি নেই।
আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আবেদনে দাবি করেছিলেন, আগের শুনানিতে তাঁকে যথাযথভাবে বক্তব্য পেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে, আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। ডিভিশন বেঞ্চের মতে, ২০২২ সালের ৭ মার্চের রায়ে কোনও আইনি ত্রুটি ছিল না। যেহেতু শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের মূল কারণসূত্র (Cause of Action) দিল্লিতে, তাই মামলাটি দিল্লির প্রধান বেঞ্চে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২৮ মে। ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে কলাইকুণ্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বৈঠক ডেকেছিলেন। অভিযোগ ওঠে, রাজ্যের মুখ্যসচিব হওয়া সত্ত্বেও আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ শুরু করে।
আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মামলাটি ইতিমধ্যেই দীর্ঘ আইনি পথ অতিক্রম করেছে। যেমন –
অক্টোবর ২০২১: ক্যাটের প্রধান বেঞ্চ মামলাটি কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।
জানুয়ারি ২০২২: সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে এই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।
মার্চ ২০২২: দিল্লি হাইকোর্ট স্থানান্তরের নির্দেশ বহাল রাখে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬: সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জিও এবার খারিজ হয়ে গেল।
২০২১ সালের ৩১ মে অবসর গ্রহণ করার পরও আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের শৃঙ্খলামূলক তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। এদিনের রায়ের ফলে দিল্লির ক্যাটে সেই প্রক্রিয়ার পথ আরও সুগম হল। আইনজ্ঞ মহলের মতে, এই রায়ের পর আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে বিকল্প পথ অত্যন্ত সীমিত হয়ে এল। দিল্লিতেই এখন তাঁকে এই দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
Leave a comment