০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ কলকাতা চিরতরে থামল শংকরের কলম: ‘জনঅরণ্য’ ছেড়ে ‘কত অজানারে’র দেশে পাড়ি দিলেন ‘চৌরঙ্গী’র পথিক
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গভারতবর্ষভারতবর্ষ

চিরতরে থামল শংকরের কলম: ‘জনঅরণ্য’ ছেড়ে ‘কত অজানারে’র দেশে পাড়ি দিলেন ‘চৌরঙ্গী’র পথিক

Share
Share

বাংলার সাহিত্যাকাশে একটি যুগের অবসান। তিনি একাই ছিলেন এক শহর, একাই এক চলমান ইতিহাস। যাঁর কলমে জীবন্ত হয়ে উঠত কলকাতার ইট-কাঠ-পাথরের ইমারত থেকে শুরু করে মানুষের ভিড়। যাঁর শব্দে কংক্রিটের রাস্তায় টুংটাং সুর তুলত প্রাগৈতিহাসিক যুগের ট্রাম। তিনি আমাদের প্রিয় লেখক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়, সাহিত্যজগতে যাঁর পরিচয় কেবল এক নামে— ‘শংকর’।

হাওড়ার মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই তরুণ একসময় কলকাতার রাজপথে ঘুরেছেন কাজের খোঁজে। ব্যারিস্টার নোয়েল বারওয়েলের ক্লার্ক হিসেবে কাজ শুরু করা সেই যুবক তাঁর ‘আইকন’-এর প্রয়াণের পর কলম ধরেছিলেন। জন্ম নিয়েছিল প্রথম উপন্যাস ‘কত অজানারে’। আর সেই প্রথম লেখাতেই তিনি ঠাঁই করে নিয়েছিলেন বাঙালির ড্রয়িংরুমে।

বাঙালি পাঠকের কাছে শংকর মানেই এক অদ্ভুত মায়ার পৃথিবী। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ:

চৌরঙ্গী: গ্র্যান্ড হোটেলের আদলে গড়া ‘শাহজাহান হোটেল’-এর সাতা বোস, মার্কো পোলো বা করবী গুহরা আজও বাঙালির রক্তে মিশে আছে।

[TECHTARANGA-POST:6652]

সত্যজিতের সেলুলয়েডে: তাঁর তীক্ষ্ণ লেখনীতে মুগ্ধ হয়ে বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন ‘সীমাবদ্ধ’ এবং ‘জনঅরণ্য’।

গবেষক শংকর: কেবল উপন্যাস নয়, স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর গবেষণা— ‘অচেনা অজানা বিবেকানন্দ’ বা ‘আমি বিবেকানন্দ বলছি’ পাঠককে এক রক্ত-মাংসের বিবেকানন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি যেমন কোটি পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনই ২০০৩ সালে পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। এছাড়াও বঙ্গবিভূষণসহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। একসময় পশ্চিমবঙ্গের শেরিফ পদের দায়িত্বও সামলেছেন এই গুণী ব্যক্তিত্ব।

শংকরের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ইমামি গ্রুপের কর্ণধার আদিত্য আগরওয়াল। তাঁর স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে এক অন্য শংকরের কথা:

“বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন প্রবাদপ্রতিম লেখক ‘শংকর’, কিন্তু আমাদের কাছে তিনি ছিলেন আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ‘মণিদা’—বন্ধু, দার্শনিক এবং পথপ্রদর্শক। ইমামি-র ৫০তম বর্ষপূর্তিতে তাঁকে সম্মান জানাতে পারা ছিল আমাদের কাছে এক পরম সৌভাগ্য। তাঁর প্রয়াণ কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের এক অপূরণীয় শূন্যতা।”

আজ শাহজাহান হোটেলের বাতি নিভেছে, জনঅরণ্যের কোলাহল ছাপিয়ে এক গভীর স্তব্ধতা নেমে এসেছে। শংকর নেই, কিন্তু সাতা বোসরা থেকে যাবে বাঙালির আবেগে, আজীবন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *