০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বিশ্ব অপরাধ মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা! আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় কাঁপছে ইরান, পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের
অপরাধবিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের দামামা! আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় কাঁপছে ইরান, পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের

Share
Share

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত করে ইরানের উপর ভয়াবহ সামরিক হামলা শুরু করল ইজরায়েল ও আমেরিকা। শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ দেশের একাধিক প্রান্তে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু — উভয়ই এই যৌথ সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।

[TECHTARANGA-POST:6834]

ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স (Fars)-এর খবর অনুযায়ী, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জমহুরি এলাকায় বেশ কিছু মিসাইল আঘাত হেনেছে। এছাড়া, শহরের উত্তরের সৈয়দ খন্দান এলাকাতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। তেহরানের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। শুধুমাত্র রাজধানী নয়, পশ্চিমের ইলাম প্রদেশ-সহ ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর। এমনকী, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর দফতরের কাছাকাছি এলাকাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে, খামেনেইকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সূত্রের।

[TECHTARANGA-POST:6830]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা আসন্ন হুমকি নির্মূল করতেই মার্কিন সামরিকবাহিনী এই অভিযান শুরু করেছে। আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।” অন্যদিকে, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই হামলাকে ইজরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই যৌথ অভিযান ইরানের মানুষকে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ করে দেবে।

[TECHTARANGA-POST:6831]

হামলার জেরে তেহরানের বড় অংশে মোবাইল ও টেলিফোন যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইজরায়েল ও ইরাক তাদের আকাশপথ সমস্ত অসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মীদের বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই হামলার পরই ইরান ‘ভয়াবহ’ এবং ‘দাবিয়ে দেওয়া’ আক্রমণের পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের সরকারি টেলিভিশনে জানানো হয়েছে, তেহরান ইজরায়েলের উপর প্রতিশোধ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এদিকে, হামলার খবর জানাজানি হতেই ইজরায়েলজুড়ে সাইরেন বাজতে শুরু করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই ইরানের দিক থেকে আসা কিছু মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:6833]

রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনা বেশ কয়েক মাস আগেই করা হয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে, যখন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল, ঠিক সেই সময়েই এই হামলা চালানো হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আক্রমণ দু-দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনার পথকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *