কলকাতা: ২০ বছর পর সেই চেনা ময়দান, চেনা মেজাজ। তবে এবার ইস্যু জমি নয়, বরং ‘জনগণের ভোটাধিকার’। শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর, মঞ্চে বসেই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বললেন, “এ লজ্জা ঢাকার কোনও জায়গা নেই। নির্লজ্জ বেহায়া বিজেপি পার্টি আর তাদের দালাল কমিশন।”
[TECHTARANGA-POST:7056]
এদিন মমতার ধরনা মঞ্চে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেল। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর তালিকায় যাঁদের ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ২২ জনকে সশরীরে হাজির করান মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “দেখুন, এঁরা ভোটারতালিকায় মৃত। কিন্তু, এখানে বহালতবিয়তে বসে আছেন। আমরা এঁদের দীর্ঘায়ু কামনা করি। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে খোঁজ রাখি, তাই আজ এঁদের প্যারেড করাচ্ছি।” তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বেছে বেছে বিরোধী ভোটব্যাঙ্কে কোপ মারতেই জীবিত মানুষকে মৃত সাজিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ বা ঝুলে রয়েছে। যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সওয়াল করেছেন।
[TECHTARANGA-POST:7055]
দুপুর থেকেই ধর্মতলার এই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। রয়েছেন সুব্রত বক্সী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রী ও নেতারা। এছাড়াও বিশিষ্টজনেরা এই প্রতিবাদী মঞ্চে সামিল হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, বিকেল ৪টে থেকে মূল সভা বা ‘মিটিং’ শুরু হবে। তার আগে রাজনৈতিক আবহাওয়া তাতিয়ে রাখতে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গান গাওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
[TECHTARANGA-POST:7054]
মমতার নিশানায় আজ শুরু থেকেই ছিল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। তাঁর সাফ কথা, দিল্লির নির্দেশেই বাংলাজুড়ে এই ভোটাধিকার হরণের চক্রান্ত চলছে। তিনি বলেন, “এসআইআরের নামে যে প্রহসন চলছে, তার বিরুদ্ধে যারা দিল্লি গিয়েছিল, সেই আটটি পরিবারও আজ এখানে বসবে। মানুষ বেঁচে আছেন, অথচ তালিকায় তাঁরা মৃত — এমন নির্লজ্জ কাজ আগে দেখিনি।”
[TECHTARANGA-POST:7053]
পরিশেষে বলা যায়, মেট্রো চ্যানেলের এই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল প্রতিবাদই করছেন না। বরং, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘নাগরিক অধিকার রক্ষা’র এক বড়সড় বয়ান তৈরি করতে চাইছেন। বিকেল ৪টের সভা থেকে তিনি পরবর্তী কী কর্মসূচির ডাক দেন, এখন সেটাই দেখার।
Leave a comment