মুর্শিদাবাদ: আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানা। সরকারি জলাশয় বা ‘নালা’ বুজিয়ে বেআইনিভাবে বসতবাড়ি তৈরির অভিযোগে তাঁকে শক্তিপুর থানায় তলব করল পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-২ ব্লকের মাণিক্যহার মৌজায় (জেএল নম্বর ৯২, প্লট নম্বর ৪৪০৪) প্রায় ০.২ একর জমি নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, ওই জমির চরিত্র ছিল ‘নালা’ (জলাশয়/জল নিকাশি পথ), যা আইনত পরিবর্তন না করেই সেখানে বসতবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে এই নির্মাণ কাজ চলেছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলডাঙা-২ ব্লক ভূমি দফতর মীরা সুলতানাকে শো-কজ নোটিস পাঠিয়ে সাতদিনের মধ্যে জবাব চেয়েছিল। কিন্তু, তার কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার মীরা সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শক্তিপুর থানায় হাজির হতে বলা হয়।
এদিকে, স্ত্রীকে পুলিশের তলব নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী থানায় হাজিরা দেবেন না। বিধায়কের দাবি, “আমরা ওই বাড়িতে ২০০৭ সাল থেকে সপরিবার থাকছি। ২০০৩ সালে জমিটি কেনা হয়েছিল। বাড়ির তৈরির কাজ শুরু হয় ২০০৫ সাল থেকে। হঠাৎ, এখন তৃণমূল ছেড়েছি বলেই আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। যা হওয়ার আইনি লড়াইতেই হবে।”
হুমায়ুন আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি তাঁর বাড়ির জমির চরিত্র পরিবর্তন বেআইনি হয়, তবে এলাকায় একই অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে হুমায়ুন কবীরের পরিবারের উপর আইনি চাপ উত্তরোত্তর বাড়ছে। সম্প্রতি লালগোলায় তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের মাধ্যমে সম্পত্তি তৈরি করার অভিযোগ ওঠে। যার জেরে প্রায় ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকার সম্পত্তি ‘ফ্রিজ’ করে পুলিশ। এবার হুমায়ুনের স্ত্রীর নামে থাকা বাড়ি নিয়ে পুলিশের তদন্ত শুরু হওয়ায় চাপে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো। পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন, ১৯৫৫ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে কড়া ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন মীরা সুলতানা। আপাতত জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সকলের।
Leave a comment