০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ ফের অশান্ত মণিপুর: সেনা জওয়ানসহ ২০ জনকে পণবন্দি করল কুকি বিদ্রোহীরা, পাহাড় জুড়ে দানা বাঁধছে নতুন আতঙ্ক
ভারতবর্ষভারতবর্ষ

ফের অশান্ত মণিপুর: সেনা জওয়ানসহ ২০ জনকে পণবন্দি করল কুকি বিদ্রোহীরা, পাহাড় জুড়ে দানা বাঁধছে নতুন আতঙ্ক

Share
ফের অশান্ত মণিপুর: সেনা জওয়ানসহ ২০ জনকে পণবন্দি করল কুকি বিদ্রোহীরা, পাহাড় জুড়ে দানা বাঁধছে নতুন আতঙ্ক
ছবি সংগৃহীত
Share

ইম্ফল: শান্ত হওয়ার বদলে মণিপুরের পরিস্থিতি যেন দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এবার উখরুল জেলায় এক ভারতীয় সেনা জওয়ানসহ ২০ জনকে পণবন্দি করার অভিযোগ উঠল কুকি স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে। উখরুল-ইম্ফল সড়কে এই অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এলাকায় ফের নতুন করে ‘অশনিসংকেত’ দেখা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের আগুনে এবার নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের নতুন বিবাদ ঘি ঢালল বলে মনে করা হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:7214]

ঘটনার সূত্রপাত উখরুল জেলার লিতান থানার অন্তর্গত এলাকায়। অভিযোগ, কুকি স্বেচ্ছাসেবকরা রাস্তা আটকে তিনটি গাড়ি থেকে ২০ জনকে নামিয়ে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে একজন ভারতীয় সেনার জওয়ানও রয়েছেন বলে জানা গেছে। কুকি সংগঠন ‘কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি’ (CoTU)-র দাবি, এটি আসলে একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। তাদের অভিযোগ, নাগা জঙ্গি সংগঠন NSCN-IM-এর সদস্যরা থাওয়াই কুকি গ্রামে সাধারণ কৃষকদের ওপর বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়েছে। সেই সংঘর্ষের সময় তাদের দুজন স্বেচ্ছাসেবক নিখোঁজ হন, যাদের মধ্যে একজন পালিয়ে আসতে পারলেও অন্যজনের হদিশ মেলেনি। নিজেদের লোকদের মুক্তির দাবিতেই তারা এই ২০ জনকে আটকে রেখেছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

[TECHTARANGA-POST:7212]

এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ইয়নাম খেমচাঁদ সিং। এক বিবৃতিতে তিনি আটক সকল ব্যক্তির নিরাপদ ও নিঃশর্ত মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এর পেছনে থাকা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে মণিপুর পুলিশ পুরো ঘটনাকে সরাসরি অপহরণ না বলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হিসেবেই দেখছে। পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, নিখোঁজ কুকি যুবকদের ফিরে পাওয়ার প্রতিক্রিয়াস্বরূপই এই পথ আটকানোর ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে বলে প্রশাসন আশাবাদী।

[TECHTARANGA-POST:7211]

উল্লেখ্য, নাগা জঙ্গি সংগঠন NSCN-IM দীর্ঘকাল ধরে ‘নাগালিম’ বা বৃহত্তর নাগা ভূখণ্ডের দাবি করে আসছে, যার মধ্যে মণিপুরের পাহাড়ি অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত। ২০১৫ সালে কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের শান্তি চুক্তি হলেও স্থানীয় স্তরে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই থামেনি। বর্তমান এই ঘটনা মণিপুরের ভঙ্গুর শান্তি ব্যবস্থাকে আবারও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *