ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালটের ইঙ্গিত মিলছে। তৃণমূলের অন্দরে ‘তাজা নেতা’ হিসেবে পরিচিত আরাবুল ইসলাম এবার ঘাসফুল শিবির ছেড়ে নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ-এ যোগ দিতে পারেন বলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:7333]
জানা গিয়েছে, আজই তাঁর ফুরফুরা শরিফ যাওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানে আইএসএফ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরেই দলবদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সরাসরি দল ছাড়ার কথা ঘোষণা না করলেও আরাবুলের গলায় ফুটে উঠেছে গভীর অভিমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল তাঁকে চিনতে পারেনি এবং সব সময় পাশে থাকা সত্ত্বেও এখন তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। শুধু আরাবুলই নন, তাঁর সঙ্গে কাইজার আহমেদও তৃণমূল ছাড়তে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।
[TECHTARANGA-POST:7341]
ভাঙড়ের রাজনীতির ময়দানে আরাবুল ইসলামের সফর বরাবরই বর্ণময় ও বিতর্কিত। একসময় দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এবং পরে আবার ফিরে এসে নিজের দাপট কায়েম করা— সব মিলিয়ে আরাবুল ছিলেন ভাঙড়ের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। তবে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব বারংবার দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পঞ্চায়েত ভোটের অশান্তিতে জেল খাটার পর ফিরে এলেও দলের ভেতরে তাঁর গুরুত্ব কমেছে বলে মনে করছেন আরাবুল নিজে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিটি আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকলেও ইদানীং তাঁকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে।
[TECHTARANGA-POST:7332]
এই পরিস্থিতিতে আরাবুল যদি সত্যিই আইএসএফ-এ যোগ দেন, তবে ভাঙড়ের লড়াই তৃণমূলের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গত বিধানসভা নির্বাচনেই এই আসনটি নওশাদ সিদ্দিকি জিতেছিলেন। এবার তৃণমূল যখন কোমর বেঁধে হারানো জমি উদ্ধারে নামছে, ঠিক তখনই আরাবুলের মতো অভিজ্ঞ নেতার বিদায় দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিল কয়েক গুণ। এখন দেখার, আরাবুল শেষ পর্যন্ত নিজের আসন থেকে প্রার্থী হন না কি নওশাদকে সমর্থনের নতুন কোনো পথ বেছে নেন।
Leave a comment