০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘিরে রণক্ষেত্র খড়্গপুর! জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর
পশ্চিমবঙ্গ

বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘিরে রণক্ষেত্র খড়্গপুর! জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর

Share
বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘিরে রণক্ষেত্র খড়্গপুর! জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর
Share

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হতেই প্রার্থী তালিকা নিয়ে অন্তর্কলহে জেরবার গেরুয়া শিবির। দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এবার সেই বিক্ষোভের আঁচ আছড়ে পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে। নারায়ণগড় কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম নিয়ে অসন্তোষ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, বিজেপির জেলা কার্যালয়ে নজিরবিহীন ভাঙচুর ও তান্ডব চালালেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। অফিসের টেবিল থেকে শুরু করে সিসিটিভি ক্যামেরা— কিছুই বাদ যায়নি তাঁদের রোষ থেকে।

নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে রমাপ্রসাদ গিরির নাম ঘোষণা হতেই দলের অন্দরে ফাটল চওড়া হতে শুরু করেছে। বিক্ষোভকারী কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, রমাপ্রসাদ গিরিকে এলাকার সাধারণ মানুষ বা বুথ স্তরের কর্মীরা কেউই মেনে নিতে পারছেন না। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে এ দিন খড়্গপুরের জেলা কার্যালয় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় জেলা নেতৃত্বকে।

তবে এই ভাঙচুর ও বিক্ষোভের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন খোদ প্রার্থীর অনুগামীরা। রমাপ্রসাদ গিরির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিজেপি নেতা শুভাশিস মহাপাত্র এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন জেলা সভাপতি সমিত দাসের বিরুদ্ধে। শুভাশিসের দাবি, জেলা সভাপতি সমিত দাস চেয়েছিলেন এই আসনে তাঁর স্ত্রীকে প্রার্থী করতে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় এবং নিজের পরিবার থেকে টিকিট না পাওয়ায়, তিনি সুকৌশলে কর্মীদের একাংশকে উস্কানি দিয়ে এই ভাঙচুর ও বিক্ষোভের ইন্ধন জোগাচ্ছেন।

পাল্টা হিসেবে জেলা সভাপতি সমিত দাস অবশ্য জানিয়েছেন, প্রার্থী মনোনয়নের সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তবে জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে প্রার্থীর অনুগামীদের এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহে কার্যত ‘গৃহযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে জেলা বিজেপিতে। ভোটের ময়দানে লড়াইয়ের আগেই এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ বিজেপিকে যে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই আদি-নব্যের লড়াই সামলে দল কীভাবে নির্বাচনী ময়দানে ঘুরে দাঁড়ায়।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *