০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ অর্থনীতি ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড পতন! কোন অঙ্কে এমন দুর্দশা ভারতীয় মুদ্রার?
অর্থনীতিভারতবর্ষ

ডলারের বিপরীতে রুপির রেকর্ড পতন! কোন অঙ্কে এমন দুর্দশা ভারতীয় মুদ্রার?

Share
Share

মুম্বই: ভারতীয় মুদ্রার পতন যেন থামতেই চাইছে না। প্রতিদিনই নিজের গড়া রেকর্ড ভেঙে আরও তলিয়ে যাচ্ছে রুপি। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার পৌঁছে গেল ৯৩.৮৪-এ! যা সর্বকালীন রেকর্ড নিম্নমুখী অবস্থান। গত শুক্রবারই প্রথমবার ৯৩-এর গণ্ডী পেরিয়েছিল রুপি (৯৩.৭৩৫)। কিন্তু, মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বুধবার ডলারের বিপরীতে রুপির দর ছিল ৯২.৬৩। অর্থাৎ, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ভারতীয় মুদ্রার দাম ১ টাকার বেশি কমে গিয়েছে! কিন্তু, কেন হঠাৎ এই ধস? বাজার বিশেষজ্ঞরা প্রধানত তিনটি কারণ এক্ষেত্রে চিহ্নিত করছেন। যথা – 

[TECHTARANGA-POST:7510]

১. পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা:

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধের আবহে গত কয়েক দিনে রুপির দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। যদিও এশিয়ার অন্যান্য দেশের মুদ্রার দামও কমেছে। তবে, ভারতের রুপির পতনের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি।

২. জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম:

ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল পিছু ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। তেলের দাম বাড়ার ফলে ভারতের আমদানি খরচ বা বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপক হারে বাড়ছে। যা সরাসরি রুপির উপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে।

৩. বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার:

ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি লগ্নিকারীরা (FPI) ক্রমাগত তাঁদের টাকা তুলে নিচ্ছেন। তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর চলতি বছরের মার্চ মাসেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বিদেশি লগ্নি ভারত থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভারতের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যা রুপির পতন আরও ত্বরান্বিত করেছে।

[TECHTARANGA-POST:7515]

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে ডলারের এই দাপট এবং তেলের দাম যদি না কমে, তাহলে আগামী দিনে ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হল, আমদানি করা পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *