০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ ভোটের মুখে বাংলায় নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল! ১৮ জেলার ৮৩ জন BDO-কে সরাল কমিশন, তালিকায় নন্দীগ্রাম ও ডায়মন্ড হারবার
পশ্চিমবঙ্গ

ভোটের মুখে বাংলায় নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল! ১৮ জেলার ৮৩ জন BDO-কে সরাল কমিশন, তালিকায় নন্দীগ্রাম ও ডায়মন্ড হারবার

Share
Share

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বাংলায় বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। রবিবার সকালে দিল্লি থেকে আসা এক নির্দেশিকায় একযোগে ১৮টি জেলার ৮৩ জন বিডিও (BDO) এবং এআরও (ARO)-কে বদলি করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে নন্দীগ্রাম, ডায়মন্ড হারবার, দিনহাটা এবং নানুরের মতো রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ব্লকগুলি। ভোটের মুখে এই গণ-বদলি ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেল।

[TECHTARANGA-POST:7676]

কমিশনের এই বদলির তালিকায় উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—বাদ যায়নি প্রায় কোনো জেলাই। কোচবিহারের দিনহাটা-২ থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার-১ ও ২, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-১ ও ২ এবং রামনগর ব্লকের বিডিও-দের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়েনি বীরভূমের নানুর, লাভপুর, সিউড়ি-১, মহম্মদবাজার ও ইলামবাজারের মতো ব্লকগুলিও। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং দুই বর্ধমান জেলাতেও বড়সড় রদবদল হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, যে সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছিল অথবা যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কর্মরত ছিলেন, তাঁদেরকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[TECHTARANGA-POST:7673]

এই বদলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার এই রদবদলকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারকে দুর্বল করতেই দিল্লি থেকে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পালটা আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন:

“দেশে যেখানেই ভোট হয়, যে আধিকারিকদের কাজে প্রশ্ন ওঠে, কমিশন তাঁদের অন্যত্র পাঠায়। বাংলায় এটা বেশি হয় কারণ, এখানকার বেশির ভাগ আধিকারিকই মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাডার হিসেবে কাজ করেন।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘ক্যাডার’ মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ভোটের আগে এই বিশাল প্রশাসনিক রদবদল কি আদৌ সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে? নাকি এই বদলি নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হবে? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত এই ৮৩ জন বিডিও-র বদলি বাংলার নির্বাচনী আবহে এক বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করেছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *