০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ অপরাধ ‘চিকিৎসক মেলেনি প্রথমে’, রাহুলের মৃত্যুতে তিনদিন পর মুখ খুলল প্রযোজনা সংস্থা!
অপরাধপশ্চিমবঙ্গবিনোদন

‘চিকিৎসক মেলেনি প্রথমে’, রাহুলের মৃত্যুতে তিনদিন পর মুখ খুলল প্রযোজনা সংস্থা!

Share
Share

কলকাতা: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকালপ্রয়াণে উত্তাল টলিউড। গত রবিবার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন তাঁর মৃত্যু নিয়ে যখন হাজারও প্রশ্ন আর ধোঁয়াশা দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই ঘটনার তিনদিন পর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করল সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা – ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’। বিবৃতিতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়েও একাধিক বড় দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রযোজনা সংস্থার তরফে শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত। বর্তমানে ইউনিটের অভিনেতা ও কলাকুশলীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘটনার সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা বুঝতে ইতিমধ্যেই সকলের সঙ্গে কথা বলা শুরু হয়েছে। সংস্থার দাবি, “আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করে দেখতে চাই যে – তাঁদের বক্তব্যের মধ্যে কোথায় মিল রয়েছে এবং কোথায় কোনও অসঙ্গতি আছে।” এই নিখুঁত তদন্তের জন্য আরও কয়েকটা দিন সময় চেয়েছে ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স।

তদন্ত নিয়ে যাতে কোনও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে, তাই এক নজিরবিহীন প্রস্তাব দিয়েছে ম্যাজিক মোমেন্টস। তারা জানিয়েছে, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার বা আর্টিস্ট ফোরামের কোনও প্রতিনিধি চাইলে তাঁদের এই অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ফেডারেশন বা স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি তাঁরা সংশ্লিষ্ট সকলকে দেখাতে প্রস্তুত। অবহেলার বিন্দুমাত্র কোনও ঘটে থাকলেও তা যাতে আড়াল না হয়, সে বিষয়ে সংস্থা অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর প্রথমে নাকি চিকিৎসকই পাওয়া যায়নি। যদি দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যেত, তাহলে হয়তো রাহুলকে বাঁচানো সম্ভব হত। উল্লেখ্য, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে রাহুলের ফুসফুস ও পাকস্থলীতে অতিরিক্ত বালি ও নোনা জল পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যার অর্থ – তিনি দীর্ঘক্ষণ জলের নীচে ছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি জল থেকে তোলার পর আদৌ রাহুল বেঁচে ছিলেন? আর, তিনি যদি জল থেকে তোলার আগেই মারা যান, তাহলে সেখানে আগে চিকিৎসক থাকলেই বা কী হত?

ঘটনার দিনই সংশ্লিষ্ট পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় রাহুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, শোকাতুর পরিবার তখন কথা বলার অবস্থায় ছিল না। সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিবারের মনে কোনও প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে তাঁরা সাধ্যমতো উত্তর দিতে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

রাহুলের মৃত্যু কি স্রেফ সময়ের অভাব নাকি চরম গাফিলতি? প্রযোজনা সংস্থার এই বিবৃতির পর এখন নজর রয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *