০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home বাংলাদেশ কূটনীতি নজিরবিহীন নিরাপত্তা! কেমন কাটল ওপার বাংলার পয়লা বৈশাখ?
কূটনীতিবাংলাদেশবাংলাদেশবিনোদনলাইফস্টাইলসাক্ষাৎকারসাহিত্যসোশ্যাল মিডিয়াহাস্যরস

নজিরবিহীন নিরাপত্তা! কেমন কাটল ওপার বাংলার পয়লা বৈশাখ?

Share
Share

কলকাতা ও ঢাকা: উৎসবের রং বনাম নিরাপত্তার কড়াকড়ি – এই দুইয়ের মিশেলেই বাংলাদেশে উদযাপিত হল ১৪৩৩ সনের বাংলা নববর্ষ। একদিকে যেমন ঢাকার রাস্তায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পা মেলালেন হাজার-হাজার মানুষ, অন্যদিকে অশুভ শক্তির ছায়া কাটিয়ে নির্ভয়ে সংস্কৃতি চর্চার দাবি তুলল ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’। তবে, এবারের বর্ষবরণের সবথেকে বড় চমক ছিল শোভাযাত্রার নাম বদল।

[TECHTARANGA-POST:7991]

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরীর ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম বদলে হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বিতর্ক এড়াতেই ‘আনন্দ’ বা ‘মঙ্গল’ শব্দ দুটি বাদ দিয়ে সরকারিভাবে এই নতুন নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ – ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

[TECHTARANGA-POST:7972]

মঙ্গলবার বাংলাদেশি সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয় এই শোভাযাত্রা। নিরাপত্তার স্বার্থে ছিল অশ্বারোহী বাহিনী, রোভার স্কাউট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক স্তরের ঘেরাটোপ। শোভাযাত্রায় মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া – এই পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীকের মাধ্যমে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঠিক এক ঘণ্টার মাথায় শোভাযাত্রাটি পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়।

[TECHTARANGA-POST:7979]

প্রতিবছরের মতো এবারও রমনার বটমূলে ভোরের রাগে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় ছায়ানট। তবে, সুরের মূর্ছনার মাঝেই শোনা গেল শঙ্কার সুর। সমাজের ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দলবদ্ধ নিগ্রহের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন ছায়ানটের সভাপতি ড. সারওয়ার আলি। তিনি স্পষ্ট জানান, অশুভ শক্তির অন্ধকার ঠেলে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের পথকে কণ্টকমুক্ত রাখতে হবে। শঙ্কামুক্ত পরিবেশে নির্ভয়ে গান গাওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছেন শিল্পীরা।

[TECHTARANGA-POST:7967]

নাম নিয়ে বিতর্ক বা নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও এদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহে কোনও খামতি ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ – সকলেই শামিল হয়েছিলেন এই উৎসবে। অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে এক নতুন গণতান্ত্রিক ভোরের আশায় মেতে উঠেছিল গোটা বাংলাদেশ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles