ইসলামপুর ও কলকাতা: পয়লা বৈশাখেই বাংলায় ফের তুঙ্গে উঠল রাজভবন বনাম নবান্নের সংঘাত! বাংলার অর্থনৈতিক ‘অধঃপতন’ নিয়ে নয়া রাজ্যপাল আর এন রবির ‘পরিবর্তন’-এর ডাকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর থেকে পাল্টা তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপালের নাম না করে তাঁকে ‘লাটসাহেব’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, নববর্ষের দিন তাঁকে ‘গালি’ দিয়েছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান!
[TECHTARANGA-POST:8039]
বুধবার সকালে লোকভবনের (রাজভবন) এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, এক সময় ভারতের জিডিপিতে বাংলার অবদান ১০ শতাংশ থাকলেও এখন তা ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, “ইতিবাচক হওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। পরিবর্তনের অংশ হোন। বাংলা পিছিয়ে থাকতে পারে না।” রাজ্যপালের এই ‘পরিবর্তন’-এর ডাক ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।
[TECHTARANGA-POST:8029]
এই ঘটনার পর এদিনই ইসলামপুরের নির্বাচনী সভা থেকে কারও নাম না নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার লাটসাহেব, সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন, আজ বিবৃতি দিয়েছেন। আজ নববর্ষ, বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানান। তা না করে আমাকে গালি দিয়েছেন।”
[TECHTARANGA-POST:8021]
মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আগে বাংলায় এতটা অশান্তি হত না। তাঁর দাবি, “এখন আপনাদের অধীনে আসার পর প্রতিদিন অশান্তি হচ্ছে। এটা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যায়। আমাদের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলা নেই, সব কমিশন আর কেন্দ্রের কাছে।”
[TECHTARANGA-POST:8021]
জগদীপ ধনকড় বা সিভি আনন্দ বোসের সময় রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত বারবার শিরোনামে এসেছে। গত ১৩ মার্চ দায়িত্ব নেওয়া নতুন রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে ২১ মার্চ নবান্নে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন মমতা। কিন্তু, নয়া রাজ্যপাল দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র একমাসের মধ্যেই ‘পরিবর্তন’ ইস্যুতে যেভাবে সংঘাত শুরু হল, তাতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজভবন-নবান্ন সম্পর্ক ফের তলানিতে ঠেকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Leave a comment