০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা টিকিট না-পাওয়ার ‘যন্ত্রণা’ ভুলে মমতার গাড়িতেই রবীন্দ্রনাথ! কোচবিহারে অভিমানী নেতার প্রত্যাবর্তন?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

টিকিট না-পাওয়ার ‘যন্ত্রণা’ ভুলে মমতার গাড়িতেই রবীন্দ্রনাথ! কোচবিহারে অভিমানী নেতার প্রত্যাবর্তন?

Share
টিকিট না-পাওয়ার ‘যন্ত্রণা’ ভুলে মমতার গাড়িতেই রবীন্দ্রনাথ! কোচবিহারে অভিমানী নেতার প্রত্যাবর্তন?
ছবি সংগৃহীত
Share

কোচবিহার: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থিতালিকায় নাম না থাকায় বুক ভরা অভিমান নিয়ে কার্যত ঘরেই বসেছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন ‘ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের শিকার’ হওয়ার কথা। কিন্তু, রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটিমাত্র ‘ফোন’ আর সস্নেহ পরশ যে সব সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার। কোচবিহারের একদা দাপুটে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে নিজের গাড়িতে বসিয়েই রাসমেলা ময়দানের জনসভায় নিয়ে এলেন তৃণমূলনেত্রী!

প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর থেকেই কোচবিহারের রাজনীতির অলিন্দে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা ছিল তুঙ্গে। বিদায়ী বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথকে ফেসবুক পোস্টে আক্ষেপ করতেও দেখা গিয়েছিল। এমনকী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সভাতেও তাঁর দেখা মেলেনি। তবে, শুক্রবারের ছবিটা ছিল একেবারে উল্টো। কোচবিহারের হোটেল থেকে সভাস্থল – সর্বত্রই মমতার পাশে দেখা গেল তাঁকে। সভামঞ্চেও সামনের সারিতে বসে প্রবীণ এই নেতা বুঝিয়ে দিলেন, ‘দিদি’র নির্দেশই তাঁর কাছে শেষ কথা।

[TECHTARANGA-POST:8115]

যদিও, মঞ্চে ফিরলেও রবীন্দ্রনাথের গলায় এদিন ছিল প্রচ্ছন্ন আক্ষেপ। এতদিন কেন প্রচারে দেখা যায়নি, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেন। রবীন্দ্রনাথের কথায়, “কোনও প্রার্থীই প্রচারের জন্য আমাকে ডাকেননি। এমনকী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও কেউ ডাকেননি। তাই, কোনও সভায় যাইনি। তবে, দিদি আমাদের অভিভাবক। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন সভায় থাকার, তাই এসেছি।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথকে দলের ‘পুরনো দিনের কর্মী’ বলে সম্মান জানান। নেত্রীর এই বার্তায় কি বরফ গলল? রবীন্দ্রনাথের সংক্ষিপ্ত জবাব, “দিদির নির্দেশই সব!”

[TECHTARANGA-POST:8112]

কিছুদিন আগেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন যে তিনি রাজনৈতিক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বড় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। অনেকেই মনে করেছিলেন, নাটাবাড়ির প্রাক্তন বিধায়ক হয়তো রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেবেন। কিন্তু, মমতার হস্তক্ষেপে সেই জল্পনায় জল পড়ল।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, স্রেফ সৌজন্যের খাতিরেই কি রবীন্দ্রনাথ সভায় এলেন, নাকি শেষবেলায় দলীয় প্রার্থীদের হয়ে কোমর বেঁধে প্রচারে নামবেন তিনি? কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণের দুই প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক এবং পার্থপ্রতিম রায়ের জয় নিশ্চিত করতে রবীন্দ্রনাথের অভিজ্ঞতায় কি ভরসা রাখবে দল? কোচবিহারের রাজনৈতিক মহল এখন সেই উত্তরই খুঁজছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *