নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার রাজ্য রাজনীতি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিকস্তরেও তার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ল। বঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার তাদের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোই ভারতের দীর্ঘদিনের নীতি।
[TECHTARANGA-POST:8864]
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারত থেকে যদি ‘পুশ-ইন’ (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) করানোর চেষ্টা করা হয়, তবে ঢাকাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। বিএনপি-র পক্ষ থেকে এই মন্তব্যটি প্রচার করা হলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাল্টা সুর চড়িয়ে জানান, “অবৈধভাবে যাঁরা ভারতে থাকছেন, তাঁদের ফেরত পাঠানোই আমাদের নীতি। তবে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।”
[TECHTARANGA-POST:8863]
ভারতের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২,৮৬০টির বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মামলা বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে। রণধীর জয়সওয়াল আক্ষেপের সুরে জানান, এর মধ্যে অনেক মামলাই গত পাঁচ বছর ধরে অমীমাংসিত। ভারত আশা করছে, বাংলাদেশ দ্রুত এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে যাতে অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে করা যায়।
[TECHTARANGA-POST:8861]
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার ছিল অনুপ্রবেশ সমস্যা। তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বার করা হবে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তোড়জোড় শুরু হতেই ঢাকার অস্বস্তি বেড়েছে।
[TECHTARANGA-POST:8859]
আগামী শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নতুন রাজ্য মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। সেই দিনই প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম। শপথ গ্রহণের আগেই অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে এই কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
Leave a comment