কলকাতা: ২০২৪ সালের সেই অভিশপ্ত রাতের ধামাচাপা পড়া সত্যিটা কি এবার তবে সামনে আসবে? আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুন মামলার জল এবার গড়াল বহুদূর। দীর্ঘ ১ বছর ৭ মাস পর খোদ কলকাতা হাই কোর্টের কড়া নির্দেশে ফের গঠন করা হলো এক হাইপ্রোফাইল ‘সিট’ (SIT)। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে এই তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে হবে। সিট-এর মূল লক্ষ্যই হবে ঘটনার দিন রাতের ডিনার থেকে শুরু করে নির্যাতিতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত ঠিক কী কী ঘটেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনাক্রম নতুন করে খতিয়ে দেখা। আগামী ২৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এই নতুন সিট-কে তাদের প্রথম তদন্ত রিপোর্ট সরাসরি হাই কোর্টে জমা দিতে হবে।
[TECHTARANGA-POST:9343]
ফিরে তাকালে মনে পড়ে যায় ২০২৪ সালের ৮ আগস্টের সেই শিউরে ওঠা রাত, যখন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে নাইট ডিউটি করতে গিয়ে সেমিনার রুমের ভেতরেই প্রাণ হারাতে হয়েছিল তরুণী চিকিৎসককে। সেই সময় কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআই-এর হাতে। শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও সিবিআই নতুন করে কাউকে পাকড়াও না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন অভয়ার বাবা-মা।
[TECHTARANGA-POST:9342]
তাঁদের স্পষ্ট দাবি ছিল, প্রভাবশালী আরও অনেকেই এই ঘটনার পেছনে জড়িত, যাদের আড়াল করা হয়েছে। অবশেষে রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে আর জি করের ফাইল নতুন করে খোলার নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমনকি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী সেই সময় প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে কোনও গোপন নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তাও এখন আতসকাচের তলায়।
[TECHTARANGA-POST:9341]
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এই অনড় মনোভাবের পরই আজ কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআই-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার অধীনে এই নতুন সিট গঠনের ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল। আজ আদালতে শুনানির সময় ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবরের চার্জশিট পেশের পর থেকে গত ১ বছর ৭ মাস সিবিআই ঠিক কী তদন্ত করেছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্ট। সিবিআই-এর পক্ষে জানানো হয় যে তারা এই সময়ে ৭০ থেকে ৮০ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করেছে। তবে আদালত এবার আর কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ। তথ্যপ্রমাণ লোপাট, ময়নাতদন্তের তাড়াহুড়ো এবং রাতের অন্ধকারে তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পেছনে আসল প্রভাবশালী মাথা কারা ছিল, তা টেনে বের করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এই নতুন সিট-কে। ২৫ জুনের মেগা রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।
Leave a comment