০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা অয়নের এন্ট্রি রুখতে চেয়েছিলেন পাঁচু, শোনেননি সুজিত! প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বয়ানে তীব্র শোরগোল
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

অয়নের এন্ট্রি রুখতে চেয়েছিলেন পাঁচু, শোনেননি সুজিত! প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বয়ানে তীব্র শোরগোল

Share
অয়নের এন্ট্রি রুখতে চেয়েছিলেন পাঁচু, শোনেননি সুজিত! প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বয়ানে তীব্র শোরগোল
পুর দুর্নীতিতে দক্ষিণ দমদমের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বয়ানে তীব্র শোরগোল। ছবি-সংগৃহীত
Share

কলকাতা: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি হেফাজত শেষে এবার সুজিত বসুর ৪ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। কিন্তু তার থেকেও বড় ধামাকাটি ঘটালেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছে দেওয়া বয়ানে তিনি সরাসরি প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। পাঁচু রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুরসভার নিয়োগের পরীক্ষার দায়িত্ব প্রমোটার অয়ন শীলের সংস্থাকে দেওয়া নিয়ে তাঁর তীব্র আপত্তি ছিল। কেন একটি বাইরের সংস্থাকে হুট করে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্নও তুলেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন দাপুটে পুরকর্তা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু তাঁর সেই সমস্ত আপত্তিকে এক ফুৎকারে উড়িয়ে দেন এবং গায়ের জোরে অয়নের সংস্থাকেই বরাত পাইয়ে দেন।

বৃহস্পতিবার বিশেষ ইডি আদালতে সুজিত বসুকে পেশ করা হলে তদন্তকারীরা একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। ইডির দাবি, এই পুর নিয়োগ দুর্নীতি থেকে সুজিত বসু ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রায় ১৫০ জন প্রার্থীর অবৈধ বা ভুয়ো নিয়োগে সুজিত বসুর সরাসরি যোগ রয়েছে। যখন এই নিয়োগের খেলা চলছিল, তখন তিনি ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন ছিলেন। শুধু তাই নয়, এই দুর্নীতির বিপুল টাকার একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা গোপাল চন্দ্র পোদ্দার নামে এক ব্যক্তির কাছে গিয়েছে, যাঁর কোম্পানিতে গোপাল ও উত্তম সাহার নামে ৬৪ শতাংশ শেয়ার ছিল। এই বিপুল অঙ্কের বেআইনি লেনদেনের উৎস এবং বাকি টাকা কোথায় পাচার করা হয়েছে, তা জানতে সুজিতকে আটকে রেখে জেরা করা অত্যন্ত জরুরি বলে আদালতে সওয়াল করেন ইডির আইনজীবী।

তদন্তের স্বার্থে এবং সুজিত বসুর বয়ান যাচাই করতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকে ইতিমধ্যেই দু’বার তলব করেছিল ইডি। কিন্তু প্রতিবারই তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা না দিয়ে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বা অসুস্থতার দোহাই দিয়ে এড়িয়ে গিয়েছেন। ইডি আদালতে জানিয়েছে, সুজিতের মুখোমুখি বসিয়ে নিতাই দত্তকে জেরা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যদিকে, শুনানির সময় ইডির আইনজীবী যখন এই সমস্ত তথ্য পেশ করছিলেন, তখন সুজিত বসুর আইনজীবীরা বারবার বাধা সৃষ্টি করেন। এই নিয়ে এজলাসের ভেতরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইডির আইনজীবী, যার জেরে পরবর্তীতে সুজিতের আইনজীবী নিজের আচরণের জন্য আদালতের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন।

আদালতে সুজিত বসুর আইনজীবী দাবি করেন যে তাঁর মক্কেলকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি কোনো দুর্নীতির সাথে যুক্ত নন। এই যুক্তি খণ্ডন করে ইডির আইনজীবী সুজিতের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, সুজিত বসু জেরায় বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করছেন না। তিনি নিজের ও পরিবারের বিপুল সম্পত্তি এবং আয়ের উৎসের সমস্ত দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছেন। সর্বোপরি, সুজিত বসু অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তিনি জামিন পেলে অনায়াসেই মামলার নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে পারেন এবং সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক সুজিত বসুর জামিনের আর্জি খারিজ করে তাঁকে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *