০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা সব হারিয়ে শেষ বয়সে ভাড়াবাড়িতে! মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে পড়ে ডুকরে কাঁদলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ, সোনা পাপ্পুদের কীর্তি শুনে কী করলেন শুভেন্দু?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

সব হারিয়ে শেষ বয়সে ভাড়াবাড়িতে! মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে পড়ে ডুকরে কাঁদলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ, সোনা পাপ্পুদের কীর্তি শুনে কী করলেন শুভেন্দু?

Share
সব হারিয়ে শেষ বয়সে ভাড়াবাড়িতে! মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে পড়ে ডুকরে কাঁদলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ, সোনা পাপ্পুদের কীর্তি শুনে কী করলেন শুভেন্দু?
ছবি সংগৃহীত
Share

কলকাতা: মাথার ওপর নিজের বলতে কোনো ছাদ নেই, এক টুকরো মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের আশায় শেষ বয়সে এসেও এক ভাড়াবাড়ি থেকে অন্য ভাড়াবাড়িতে যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। পৈতৃক ভিটেমাটিটুকুও কেড়ে নিয়েছে এলাকার কুখ্যাত জোচ্চোরেরা। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে, সুবিচারের আশায় সোমবার সল্টলেকের ‘জনতার দরবারে’ খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হলেন ৮০ বছরের অশক্ত বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়। পরনে সবুজ পাঞ্জাবি, এক হাতে লাঠি আর অন্য হাতে বৃদ্ধা স্ত্রীকে আঁকড়ে ধরে যখন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজের যন্ত্রণার কথা বলছিলেন, তখন উপস্থিত সবার চোখই ভিজে উঠেছিল। বর্তমানে জেলবন্দি থাকা জয়দেব কামদার এবং সোনা পাপ্পুদের মতো প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে কীভাবে তাঁর সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে, সেই হাড়হিম করা দুর্নীতির খতিয়ান শুনেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

[TECHTARANGA-POST:9474]

বৃদ্ধ প্রবীরবাবু জানান, নিজের পৈতৃক জমিতে একটি বহুতল বা ফ্ল্যাট তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই বিশ্বাস থেকেই এলাকার প্রভাবশালী জয়দেব কামদারের ছত্রছায়ায় থাকা সোনা পাপ্পুদের হাতে নিজের পৈতৃক জমি তুলে দিয়েছিলেন। আশা ছিল, প্রোমোটিংয়ের পর নিজের জমিতেই অন্তত একটা মাথা গোঁজার নিজস্ব ছাদ পাবেন। কিন্তু সেই ফ্ল্যাট তো মেলেইনি, উল্টে নিজের হকের ফ্ল্যাট দাবি করায় জোচ্চোরদের দলবল তাঁকে লাগাতার হুমকি দিতে শুরু করে। চরম ধৃষ্টতা দেখিয়ে জমি নেওয়ার পরেও ফ্ল্যাট হস্তান্তরের জন্য বৃদ্ধের ওপর উল্টে আরও ১৭ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে। বর্তমানে সেই চক্রের চাঁই জয়দেব কামদার ও সোনা পাপ্পুরা অন্য একটি মামলায় জেলবন্দি থাকায়, ফ্ল্যাট পাওয়ার আশা একপ্রকার জলাঞ্জলি দিয়ে অথৈ সাগরে ভেসেছিলেন এই অশীতিপর বৃদ্ধ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর দরবার থেকে দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস মেলায় কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছেন এই অসহায় দম্পতি।

[TECHTARANGA-POST:9468]

প্রতি সোমবারের নিয়ম মেনে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘জনতার দরবারে’ এদিন শুধু প্রবীরবাবুই নন, হাজির হয়েছিলেন শয়ে শয়ে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরাও। মুখ্যমন্ত্রীর হাতে নিজের অভিযোগের চিঠি তুলে দিয়ে সুমন বিশ্বাস নামের এক চাকরিহারা যুবক বিগত তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণে বিঁধে বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের অভাব বা অভিযোগের কথা কোনোদিন কানেই তুলতেন না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখাই করা যেত না। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই আমাদের পাশে ছিলেন, আজ তিনি আমাদের চিঠি গ্রহণ করেছেন। আজ প্রমাণিত হলো যে চাইলেই মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করা যায়।” ওই যুবক রাজ্যে আবার স্বচ্ছতার সাথে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবিও জানান।

[TECHTARANGA-POST:9421]

উল্লেখ্য, সাধারণ মানুষের ঘরের অভাব-অভিযোগ এবং প্রশাসনিক বঞ্চনার কথা সরাসরি শুনতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন। এর আগে গত সোমবারেও তিনি একইভাবে মানুষের অভাবের কথা শুনেছিলেন। নবান্ন ও মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন থেকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের আর্জি পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য প্রতি সোমবারই এই বিশেষ দরবার বসবে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি বসার আগে সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নাম নথিভুক্ত বা রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। আজকের এই দরবার শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী সোজা নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যেখানে সব দপ্তরের সচিব এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *