০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা বাইরে বেরোলেই স্ট্রোকের ভয়, অথচ শরীরে কমছে ভিটামিন ডি! রোদ এড়িয়ে কোন জাদুতে মিলবে পুষ্টি?
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গলাইফস্টাইলস্বাস্থ্য

বাইরে বেরোলেই স্ট্রোকের ভয়, অথচ শরীরে কমছে ভিটামিন ডি! রোদ এড়িয়ে কোন জাদুতে মিলবে পুষ্টি?

Share
বাইরে বেরোলেই স্ট্রোকের ভয়, অথচ শরীরে কমছে ভিটামিন ডি! রোদ এড়িয়ে কোন জাদুতে মিলবে পুষ্টি?
প্রতীকী ছবি
Share

কলকাতা: মে মাসের চাঁদিফাটা রোদে নাজেহাল অবস্থা গোটা দেশের। বাইরে বেরোলেই ধেয়ে আসছে সানস্ট্রোক বা মারাত্মক জলশূন্যতার ঝুঁকি। এই পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকতে বাড়িতে, যাতায়াতের সময়ে কিংবা অফিসে যথাসম্ভব কড়া রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ধর্মসংকট।

[TECHTARANGA-POST:9478]

আমাদের শরীরে সুস্থ হাড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রধান চাবিকাঠি হলো ভিটামিন ডি, যার মূল উৎস আবার সেই সূর্যালোকই, যা থেকে এখন প্রাণভয়ে দূরে পালাতে হচ্ছে। তাহলে এই তীব্র গরমে রোদ থেকে বাঁচতেও হবে, আবার শরীরকে পুষ্টিও দিতে হবে— এই দুইয়ের ভারসাম্য মিলবে কীভাবে? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি সহজ কৌশল আর নিয়ম মেনে চললেই এই গরমের দিনেও শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব।

[TECHTARANGA-POST:9475]

মেডিসিনের চিকিৎসক পুষ্পিতা মণ্ডলের মতে, এই তীব্র গরমের সময়ে সাধারণত সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে কিছু ক্ষণ রোদে থাকা তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ। এই সময়ে সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী থাকে, আবার দুপুরের মতো চরম বা মারাত্মক দাহক তাপও থাকে না। চর্মরোগ চিকিৎসকদের মতে, শরীরে এই বিশেষ ভিটামিন তৈরির জন্য প্রয়োজন অতিবেগুনি বি বা ইউভি বি রশ্মি। কিন্তু সকালের একদম নরম রোদে ‘সোলার জেনিথ অ্যাঙ্গেল’-এর কারণে এবং বায়ুদূষণের জেরে এই রশ্মি পর্যাপ্ত মেলে না। ওদিকে আবার সানস্ক্রিন মাখলে তা প্রায় ৯৮ শতাংশ ইউভি বি রশ্মি আটকে দেয়। তাই বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টের তীব্র রোদকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলে সকালের দিকের রোদটুকুকে গায়ে লাগানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

[TECHTARANGA-POST:9468]

চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সূর্যালোক থেকে কার শরীর কত দ্রুত ভিটামিন ডি তৈরি করবে, তা নির্ভর করে ত্বকের রং, বয়স এবং ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর। সাধারণত, যাঁদের গায়ের রং একটু চাপা বা গাঢ়, তাঁদের ত্বকে মেলানিন বেশি থাকার কারণে রোদ থেকে পুষ্টি তৈরি হতে একটু বেশি সময় লাগে। তাই তাঁদের দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রোদে থাকা উচিত। অন্যদিকে, যাঁদের গায়ের রং হালকা বা ফর্সা, তাঁদের জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট সূর্যের আলোয় থাকাই যথেষ্ট। তবে চিকিৎসকদের কড়া হুঁশিয়ারি, ভিটামিন ডি পাওয়ার চক্করে দুপুরের কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকলে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে।

[TECHTARANGA-POST:9452]

যাঁদের শরীরে এই পুষ্টির মাত্রা ইতিমধ্যেই আশঙ্কাজনকভাবে কম, তাঁদের শুধু সূর্যালোকের ওপর ভরসা না রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দৈনন্দিন ডায়েটে ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ, ফর্টিফায়েড দুধ, ফর্টিফায়েড দানাশস্য, মাশরুম এবং কড লিভার অয়েলের মতো খাবার রাখলে শরীর ভেতর থেকে পুষ্টি পায়। তবে শুধু খাবার থেকে অনেক সময় প্রয়োজনীয় মাত্রায় ভিটামিন ডি পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো, একবার রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে এই ভিটামিনটির সঠিক মাত্রা জেনে নেওয়া এবং ঘাটতি বেশি থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নির্দিষ্ট নিয়মে সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ খাওয়া।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *