০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা অপরাধ মোবাইল ‘হারিয়েছেন’! ইডির কাছে দাবি ধৃত পুলিশকর্তা শান্তনুর, তথ্য লোপাটের পেশাদারি কৌশল? প্রশ্ন গোয়েন্দাদের
অপরাধকলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

মোবাইল ‘হারিয়েছেন’! ইডির কাছে দাবি ধৃত পুলিশকর্তা শান্তনুর, তথ্য লোপাটের পেশাদারি কৌশল? প্রশ্ন গোয়েন্দাদের

Share
মোবাইল 'হারিয়েছেন'! ইডির কাছে দাবি ধৃত পুলিশকর্তা শান্তনুর, তথ্য লোপাটের পেশাদারি কৌশল? প্রশ্ন গোয়েন্দাদের
FILE IMAGE
Share

কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তল্লাশির মুখে প্রমাণ নষ্ট করতে নিজের জোড়া মোবাইল পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন বড়ঞার তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এবার কি সেই একই কায়দায় ইডি-র হাত থেকে বাঁচতে মোবাইল গায়েব করে তথ্য লোপাটের ছক কষলেন দুঁদে পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাস? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ মে যখন শান্তনু সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে আসেন, তখন তাঁর ব্যবহৃত দু’টি মোবাইল ফোনের একটিও তাঁর সঙ্গে ছিল না। ফলে গ্রেফতারির পরও তাঁর কাছ থেকে কোনও ফোন বাজেয়াপ্ত করতে পারেননি আধিকারিকেরা।

[TECHTARANGA-POST:9485]

ইডি সূত্রে খবর, জেরার মুখে মোবাইল দুটির হদিস জানতে চাওয়া হলে শান্তনুর সাফ দাবি, তাঁর ফোন দুটি নাকি ‘হারিয়ে গিয়েছে’। তবে, পেশায় পুলিশকর্তা শান্তনুর এই তথাকথিত সরল দাবি কোনওভাবেই বিশ্বাস করতে রাজি নন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

[TECHTARANGA-POST:9474]

তদন্তকারীদের স্পষ্ট ইঙ্গিত, বর্তমান যুগে যে কোনও আর্থিক বা অপরাধমূলক কেলেঙ্কারির কিনারা করতে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন অত্যন্ত বড় হাতিয়ার। শান্তনু যে জমি দখল মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন, সেই একই মামলায় আগেই শ্রীঘরে গিয়েছেন ব্যবসায়ী জয় ওরফে জয়েশ কামদার।

[TECHTARANGA-POST:9435]

 জয়ের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করার পর তা থেকে তদন্তের একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ নথি মিলেছে বলে দাবি ইডি আধিকারিকদের। বিশেষ করে জয় কামদারের হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখে সোনা পাপ্পু এবং পুলিশকর্তা শান্তনুর সঙ্গে যোগাযোগ এবং জোরপূর্বক জমি দখল সংক্রান্ত অকাট্য তথ্যপ্রমাণ হাতে এসেছে। এমনকী, সম্প্রতি শান্তনু-ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রহুল আমিনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও তাঁর ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছেন গোয়েন্দারা। অথচ, চক্রের অন্যতম পান্ডা শান্তনুর মোবাইল দুটি শুরু থেকেই বেপাত্তা।

[TECHTARANGA-POST:9481]

তদন্তকারীদের অনুমান, গড়িয়াহাটের ফার্ন রোডের বাড়িতে তল্লাশির পর থেকেই কার্যত গা-ঢাকা দিয়েছিলেন এই পুলিশকর্তা। গত ৯ মে রাজ্যে সরকার বদলের পর থেকে ১৫ মে ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার মাঝের এই কয়েকটা দিন নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পেয়েছিলেন শান্তনু। দীর্ঘ কর্মজীবনের পেশাদারি অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ভালো করেই জানেন, তাঁর মোবাইল দুটি আসলে দুর্নীতির বহু গোপন তথ্যের খনি। কেবল এই জমি দখলই নয়, ফোন হাতড়ালে আরও অনেক রাঘববোয়ালের নাম ও চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যেতে পারত।

[TECHTARANGA-POST:9384]

গোয়েন্দাদের মতে, শান্তনু এটাও জানতেন যে মোবাইল থেকে সমস্ত চ্যাট বা ডেটা ডিলিট করে দিলেও আধুনিক ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আর ডেটা মোছার চেষ্টা করলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার ধারাও যুক্ত হত। সেই কারণেই অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আইনি মারপ্যাঁচ এড়াতে একদম ফাঁকা হাতে ইডি দফতরে হাজির হন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:9385]

তবে এত করেও নিজের শেষরক্ষা করতে পারেননি এই পুলিশকর্তা। ইডি আধিকারিকেরা যখন তাঁর কাছে জানতে চান, দু-দুটো দামি ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর একজন পুলিশ আধিকারিক হয়েও তিনি থানায় কোনও ডায়ারি বা অভিযোগ করেছেন কিনা, তখন শান্তনু জানান তিনি কোনও অভিযোগ করেননি। একজন পুলিশকর্তার নিজের ফোন হারানোর পর এই নিষ্ক্রিয়তাই তাঁর বয়ানের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই শান্তনুর ফোন দুটি শেষ কোন টাওয়ার লোকেশনে সচল ছিল, তা প্রযুক্তিগতভাবে জেনে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। সেই সূত্র ধরেই এবার ফোনের খোঁজে তল্লাশি চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইডি আধিকারিকেরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *