০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ কলকাতা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি নিয়ে তাণ্ডব! সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে ৪ মাস ধরে ফেরার বিডিও এবার হাতেনাতে ধরা পড়লেন নিউটাউনে!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গপশ্চিমবঙ্গ

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি নিয়ে তাণ্ডব! সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে ৪ মাস ধরে ফেরার বিডিও এবার হাতেনাতে ধরা পড়লেন নিউটাউনে!

Share
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি নিয়ে তাণ্ডব! সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী খুনে ৪ মাস ধরে ফেরার বিডিও এবার হাতেনাতে ধরা পড়লেন নিউটাউনে!
আটক রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ৷ ছবি-সংগৃহীত
Share

কলকাতা: চার মাস ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। আইন-আদালত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ— সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কার্যত ‘ফেরার’ সেজে বসেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হল না। মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে খোদ পুলিশের জালে জড়িয়ে গেলেন সল্টলেকের নামী স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মূল অভিযুক্ত তথা রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় গাড়ি নিয়ে এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়দের তৎপরতায় শেষমেশ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এই দুঁদে সরকারি আধিকারিক। বর্তমানে তাঁকে ইকোপার্ক থানায় রেখে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন প্রশান্ত বর্মণ। ইকোপার্ক থানা এলাকার একটি রাস্তায় তাঁর গাড়িটি আচমকাই এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে। ইমপ্যাক্ট এতটাই জোরালো ছিল যে, ওই ব্যক্তি ছিটকে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্কুটার এবং তার আরোহীর গায়ে পড়েন। দুর্ঘটনায় পথচারী ব্যক্তির পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে। এই কাণ্ড দেখে স্কুটারআরোহী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে প্রশান্তর গাড়িটি আটকে ফেলেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে গাড়ির ভেতর থেকে প্রশান্ত বর্মণকে সাধারণ মানুষকে চরম হুমকি ও হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইকোপার্ক থানার পুলিশ এবং অভিযুক্তকে গাড়ি-সহ আটক করে।

আশ্চর্যের বিষয় হল, সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের মামলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত বর্মণ ‘ফেরার’ ছিলেন বলে খাতায়-কলমে দাবি করছিল পুলিশ। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের বিস্ফোরক দাবি, পুলিশের এই দাবি আসলে আইওয়াশ মাত্র! কারণ ‘ফেরার’ থাকার এই দীর্ঘ চার মাসেও প্রশান্তকে বহুবার নিউটাউনে তাঁর নিজের বাড়িতে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এতদিন পুলিশ তাঁর নাগাল পায়নি, কিন্তু সোমবার রাতের পথ দুর্ঘটনার পর কার্যত বাধ্য হয়েই এই হাই-প্রোফাইল অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে হয়েছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, তাঁকে নৃশংসভাবে অপহরণ ও খুন করা হয়েছে, যার নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাম। নিম্ন আদালত থেকে আগাম জামিন পেলেও, কলকাতা হাইকোর্ট ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের কড়া নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চও ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণের শেষ সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেপাত্তা ছিলেন তিনি। অবশেষে চার মাস পর নিজের অহংকার ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জেরেই শ্রীঘরে ঠাঁই হলো এই অভিযুক্ত বিডিও-র।

[TECHTARANGA-POST:9491]


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *