০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ মাত্র কয়েক ঘণ্টায় মা তারা থেকে বাবা বৈদ্যনাথ! মেগা জাতীয় সড়কের মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত, খুশির হাওয়া পর্যটন মহলে
পশ্চিমবঙ্গভ্রমণ

মাত্র কয়েক ঘণ্টায় মা তারা থেকে বাবা বৈদ্যনাথ! মেগা জাতীয় সড়কের মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত, খুশির হাওয়া পর্যটন মহলে

Share
মাত্র কয়েক ঘণ্টায় মা তারা থেকে বাবা বৈদ্যনাথ! মেগা জাতীয় সড়কের মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত, খুশির হাওয়া পর্যটন মহলে
ছবি সংগৃহীত
Share

রামপুরহাট: তারাপীঠের মা তারা এবং ঝাড়খণ্ডের বিখ্যাত শিবক্ষেত্র দেওঘরের বাবা বৈদ্যনাথের মন্দির— এবার এই দুই বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র জুড়ে যেতে চলেছে সরাসরি সড়কপথে। পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের বহুদিনের দাবি মেনে অবশেষে এক নয়া এবং চমৎকার জাতীয় সড়ক নির্মাণের মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করল প্রশাসন। 

[TECHTARANGA-POST:9535]

রামপুরহাটে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড দুই প্রতিবেশী রাজ্যের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকের মাধ্যমে এই সড়ক প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল। নতুন এই রাস্তা তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ তারাপীঠ এবং ঝাড়খণ্ডের জনপ্রিয়তম তীর্থস্থান দেওঘরের মধ্যে দূরত্ব ও সময় দুই-ই এক ধাক্কায় অনেক কমে যাবে, যা দুই রাজ্যের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

[TECHTARANGA-POST:9531]

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের মাঝখণ্ড গ্রাম থেকে শুরু হয়ে ১১৪এ (114A) জাতীয় সড়কটি সরাসরি ঝাড়খণ্ডের সীমানায় প্রবেশ করে দেওঘরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এই প্রকল্পকে দ্রুত বাস্তবায়িত করতে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, বনদপ্তর ও ভূমি দপ্তরের আধিকারিক এবং রামপুরহাটের স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ঝাড়খণ্ড প্রশাসনের একাধিক শীর্ষকর্তা অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। 

[TECHTARANGA-POST:9502]

নতুন করে তৈরি হতে চলা এই ১৫ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে বীরভূম অংশে থাকবে প্রায় ৯ কিলোমিটার এবং ঝাড়খণ্ড অংশে থাকবে প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা। পুরো প্রকল্পটিতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9460]

সারা বছরই দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী তারাপীঠ ও দেওঘরে পুজো দিতে আসেন। কিন্তু সরাসরি কোনও উন্নত হাইওয়ে না থাকায় যাত্রীদের অনেকটা পথ ঘুরে, চরম ভোগান্তি সহ্য করে যাতায়াত করতে হতো। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে এবং শ্রাবণ মাসে দেওঘরের বলবোম যাত্রীদের ভিড়ের কারণে যাতায়াত কার্যত স্তব্ধ হয়ে যেত। এই রাস্তাটি তৈরি হলে পুণ্যার্থীরা অত্যন্ত কম সময়ে একবারে দুটি তীর্থক্ষেত্র দর্শন করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, দেওঘর ও ঝাড়খণ্ডমুখী সমস্ত গাড়ি রামপুরহাট শহরের ওপর দিয়ে না গিয়ে এই নতুন বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করায় রামপুরহাট শহরের দীর্ঘদিনের চিলিং যানজটের সমস্যা থেকেও চিরতরে মুক্তি মিলবে।

[TECHTARANGA-POST:9503]

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দাবি জানানো হলেও আগের রাজ্য সরকারের অনীহা ও উদাসীনতার কারণে প্রকল্পটি ফাইলের তলাতেই চাপা পড়েছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কেন্দ্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সদিচ্ছার ফলেই এই স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। এই হাইওয়ের হাত ধরে রাস্তার দু’পাশে নতুন হোটেল, লজ ও দোকানপাট গড়ে উঠলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের এক বিরাট দিগন্ত খুলে যাবে বলে আশায় বুক বাঁধছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *