০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা ৩০ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের! পরীক্ষার ডেডলাইনে বিরাট রদবদল
কলকাতাদিল্লিপশ্চিমবঙ্গ

৩০ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের! পরীক্ষার ডেডলাইনে বিরাট রদবদল

Share
৩০ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি নিয়ে চরম সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের! পরীক্ষার ডেডলাইনে বিরাট রদবদল
ছবি--প্রতীকী
Share

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে কর্মরত লাখ লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি এবং যোগ্যতা নিয়ে এবার চূড়ান্ত ও ঐতিহাসিক রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। স্কুল স্তরে শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনও রকম আপস করা হবে না, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দেশজুড়ে কর্মরত সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষককে অবশ‍্যই টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট (TET) পাশ করতে হবে। তবে এই কড়া নির্দেশের পাশাপাশি কর্মরত শিক্ষকদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর শুনিয়েছে আদালত। পরীক্ষা পাশের পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা এবার আরও এক বছর বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিচারপতির বেঞ্চ, যা নিঃসন্দেহে লাখ লাখ শিক্ষকের উদ্বেগ কিছুটা হলেও লাঘব করবে।

[TECHTARANGA-POST:9590]

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের হাইপ্রোফাইল ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা করেছে। আদালতের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে দেশের সমস্ত কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষককে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে। এর আগে এই পরীক্ষা পাশের জন্য ২০২৭ সালের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষের আগেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক রিভিউ পিটিশন বা পুনর্বিবেচনার আর্জি জমা পড়েছিল। আবেদনকারী শিক্ষকদের মূল বক্তব্য ছিল, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করছেন, তাই এই বয়সে এসে নতুন করে তাঁদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা দেওয়ার নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হোক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট করে দেয় যে, ছাড় দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই এবং সকলকেই নতুন করে পরীক্ষায় বসে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

[TECHTARANGA-POST:9589]

এই রায়ের জেরে সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাতেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র আমাদের রাজ্যেই প্রায় ১ লক্ষ এমন প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন, যাঁরা টেট পাশ করেননি। মূলত প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে টেট পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার আইন আসার আগেই তাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। রাজ্য স্তরের এই ১ লক্ষ শিক্ষকসহ গোটা দেশে এমন অপ্রশিক্ষিত বা টেট না পাওয়া শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। পূর্বের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনও কর্মরত শিক্ষক এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষায় না বসেন বা পাশ করতে না পারেন, তবে তাঁকে স্বইচ্ছায় অবসর বা ‘ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট’ নিতে হবে। তবে মানবিকতার খাতিরে যাঁদের চাকরি জীবন থেকে অবসরের আর মাত্র ৫ বছর বা তার কম সময় বাকি রয়েছে, তাঁদের এই কঠিন পরীক্ষা দেওয়া থেকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী ২০২৮ সালের ৩১ অগস্টের ডেডলাইনকে সামনে রেখে এখন ফের একবার নতুন করে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নামতে হচ্ছে রাজ্যের ১ লক্ষসহ দেশের মোট ৩০ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষককে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *