০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home ভারতবর্ষ এল নিনোর থাবা! দেশজুড়ে ঘাটতি বর্ষার আশঙ্কা, জুনে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা মৌসম ভবনের
ভারতবর্ষ

এল নিনোর থাবা! দেশজুড়ে ঘাটতি বর্ষার আশঙ্কা, জুনে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা মৌসম ভবনের

Share
এল নিনোর থাবা! দেশজুড়ে ঘাটতি বর্ষার আশঙ্কা, জুনে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা মৌসম ভবনের
ছবি--প্রতীকী
Share

নয়াদিল্লি: এ বছর বর্ষার মরসুমে দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করল মৌসম ভবন। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত ‘এল নিনো’র প্রভাবে জুন মাসেও স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে এবার স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। যা দেশের কৃষি ক্ষেত্রের পাশাপাশি পানীয় জলের সরবরাহেও বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9592]

সাধারণত, বিগত ৫০ বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বর্ষাকালে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়, তার গাণিতিক গড়কে ‘এলপিএ’ (লং পিরিয়ড অ্যাভারেজ) বলা হয়। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ভারতের জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্ষার গড় বৃষ্টিপাত বা এলপিএ হল ৮৭ সেন্টিমিটার। কিন্তু, আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, চলতি মরসুমে এলপিএ-র মাত্র ৯০ শতাংশ বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে এপ্রিল মাসে মৌসম ভবন জানিয়েছিল যে ৯২ শতাংশ বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু, শুক্রবার সেই পূর্বাভাসের পরিমাণ আরও কমিয়ে দেওয়া হল।

[TECHTARANGA-POST:9591]

কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব এম রবিচন্দ্রণ জানিয়েছেন, সমস্ত পরিবর্তনশীল বিষয়গুলি বিবেচনা করেই এই ৯০ শতাংশ এলপিএ-র পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মৌসম ভবনের মতে, এবার দেশে ঘাটতিপূর্ণ বর্ষার (এলপিএ-র ৯০ শতাংশের কম) সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ এবং স্বাভাবিক বর্ষার সম্ভাবনা মাত্র ১৪ শতাংশ। অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা এবার নেই বললেই চলে।

[TECHTARANGA-POST:9590]

এই ঘাটতির পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়েছেন দেশের কৃষকরা। বিশেষ করে যে সমস্ত অঞ্চলের কৃষিকাজ সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল, সেখানে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা ‘স্বাভাবিক’ থাকলেও মধ্য, দক্ষিণ এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে বর্ষা বেশ দুর্বল থাকবে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ জল এবং পানীয় জলের উৎসগুলিতে টান পড়তে পারে, যার জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন।

[TECHTARANGA-POST:9589]

সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে। তবে, আবহবিদদের চিন্তা বাড়িয়ে গত ২৬ মে কেরলে বর্ষা ঢোকেনি। ফলত, আগামী ৪ জুন পর্যন্ত কেরলে আবহাওয়া মূলত শুকনোই থাকবে। ৪ থেকে ১১ জুনের মধ্যে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হতে পারে। সচিব এম রবিচন্দ্রণ জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ বৃষ্টি সমুদ্রের উপর হচ্ছে, মূল ভূখণ্ডে নয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বর্ষা ধীরে ধীরে আরব সাগর ও উপদ্বীপীয় ভারতের দিকে এগোতে পারে।

[TECHTARANGA-POST:9588]

বৃষ্টির এই খামখেয়ালিপনার পাশাপাশি জুন মাসে তীব্র গরমের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা, পঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার, গুজরাত, ছত্তীসগঢ় এবং অন্ধ্রপ্রদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ (হিটওয়েভ) চলতে পারে। এছাড়া মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা, হিমাচলপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর কিছু অংশেও অতিরিক্ত গরমের সম্ভাবনা রয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে দেশবাসীকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার পরামর্শ দিয়েছে মৌসম ভবন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *