০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনায় জালিয়াতি? কাটমানি আদায়? এবার বসিরহাটের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর!
পশ্চিমবঙ্গ

আবাস যোজনায় জালিয়াতি? কাটমানি আদায়? এবার বসিরহাটের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর!

Share
আবাস যোজনায় জালিয়াতি? কাটমানি আদায়? এবার বসিরহাটের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর!
FILE IMAGE
Share

বসিরহাট: দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল দাস। শুক্রবার রাতে বসিরহাট থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই এই গ্রেফতারির ঘটনা কেন্দ্র করে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9618]

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা একজোট হয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর গোপাল দাসের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গরিব মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ করে দেওয়ার টোপ দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন এই কাউন্সিলর। টাকা দেওয়ার পরও বহু যোগ্য মানুষ ঘর পায়নি, আবার কেউ কেউ আংশিক টাকা পেয়ে বঞ্চিত হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বসিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার রাতে পুলিশ গোপাল দাসকে গ্রেফতার করে।

[TECHTARANGA-POST:9617]

তদন্তে নেমে ধৃত কাউন্সিলারের অতীত নিয়ে উঠে এসেছে আরও একাধিক বিস্ফোরক তথ্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এদেশে আসার পর প্রথমে ভ্যাবলা স্টেশনের রেললাইনের ধারে বেআইনিভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন শাসকদল সিপিএমের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং তাঁদেরই ছত্রছায়ায় ভারতীয় পরিচয়পত্রসহ একাধিক জরুরি সরকারি নথি জাল করে তৈরি করে নেন বলে অভিযোগ। এরপর সিপিএমের টিকিটেই প্রথমবার লড়ে তিনি পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন!

[TECHTARANGA-POST:9615]

রাজ্যে বাম শাসনের অবসান ঘটলে ভোলবদল করে তৃণমূলে যোগ দেন গোপাল দাস। এরপর ঘাসফুল শিবিরের টিকিটে পরপর দু’বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাত দেওয়ার নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা টাকা তোলা আদায়ের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাগাতার কাটমানি খাওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *