০৫
আশ্বিন • October
রবিবার / Sunday
October 05, 2026
11:35:00 PM • রাত ১১:৩৫
Home কলকাতা সোনারপুরে আক্রান্ত অভিষেক! ‘চোর’ স্লোগানের মাঝেই চলল চড়-ঘুসি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় দিলেন হেলমেট!
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গ

সোনারপুরে আক্রান্ত অভিষেক! ‘চোর’ স্লোগানের মাঝেই চলল চড়-ঘুসি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় দিলেন হেলমেট!

Share
সোনারপুরে আক্রান্ত অভিষেক! ‘চোর’ স্লোগানের মাঝেই চলল চড়-ঘুসি, ডিম-জুতো থেকে বাঁচতে মাথায় দিলেন হেলমেট!
ছবি সংগৃহীত
Share

সোনারপুর: ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চারচাকা গাড়ি ছেড়ে বাইকে চড়ে সোনারপুরে ঢোকার মুখে তাঁর ওপর একদল বিক্ষোভকারী চড়াও হয় বলে অভিযোগ। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুসি, ডিম এবং জুতো ছুড়ে অভিষেককে হেনস্থা করা হয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে মাথা বাঁচাতে ক্রিকেট খেলার হেলমেট পরে হেঁটে নিহত কর্মীর বাড়ি পৌঁছতে হয় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে! এই ঘটনায় তাঁর চশমা ভেঙে গিয়েছে এবং পরনের সাদা শার্টের বোতামও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে।

[TECHTARANGA-POST:9628]

বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তিন সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। শনিবারই প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাস্তায় নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে কলকাতার বেলেঘাটায় ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী বিশ্বনাথ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেখান থেকে কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই-কাণ্ডের তদন্তে আসা সিআইডি-র নোটিস সংগ্রহ করেন। এরপর বিকেলের দিকে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভাকেন্দ্রের অন্তর্গত কামরাবাদে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রওনা দেন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:9626]

তবে, অভিষেক সোনারপুরে পৌঁছনোর আগেই পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে কামরাবাদ পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কোথাও কোথাও মহিলারা হাতে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই চরম বিক্ষোভের মুখে পড়ে মূল রাস্তা ছেড়ে দলের এক কর্মীর বাইকের মাঝখানের আসনে বসে অলিগলি দিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন অভিষেক। মোট তিনটি বাইক যাচ্ছিল। কিন্তু, বিক্ষোভকারীরা বাইক তাড়া করে অভিষেককে ঘিরে ফেলে। শুরু হয় শারীরিক হেনস্থা। ভেঙে দেওয়া হয় তাঁর চপারটি (বাইক)।

[TECHTARANGA-POST:9624]

ওই বিধ্বস্ত অবস্থাতেই কোনও মতে সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে ঢোকেন তৃণমূল নেতা। সেখানে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি। অভিষেক বলেন, “হেলমেটটা মাথায় ছিল বলে আমার মাথাটা বেঁচে গিয়েছে। ওরা আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। ওরা আমায় মারতে চায়? মেরে দিক! কিন্তু আমি এখান থেকে যাব না, সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি।” একইসঙ্গে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, আগেভাগে কর্মসূচির কথা জানানো সত্ত্বেও পুলিশ কার্যত তাঁকে বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে আক্রমণ করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দু’কান কাটা, নির্লজ্জ’ বলে কটাক্ষ করেন এবং ক্যামেরার সামনে ঘুষ নেওয়ার পুরনো প্রসঙ্গ টেনে খোঁচা দেন তিনি।

[TECHTARANGA-POST:9621]

এর আগে দুপুরে হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ সিআইডি-র একটি দল গেলেও তাঁর দেখা পায়নি। পরে কালীঘাটের বাড়ি থেকে সিআইডি-র নোটিস ‘রিসিভ’ করে অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “ইডি-সিবিআইয়ের কাছে আমি মাথা নত করিনি, সিআইডি দিয়েও আমাকে দমানো যাবে না।” কিন্তু, সিআইডি-র সেই পর্ব মিটতেই বিকেলে সোনারপুরে গিয়ে যে ধরনের নজিরবিহীন শারীরিক নিগ্রহ ও ‘চোর’ স্লোগানের মুখে তাঁকে পড়তে হল, তা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *